চাকরি কেমন
সব লেখা

কর্মীর অধিকার৩ মিনিটে পড়ুন

মাতৃত্বকালীন ছুটি এখন ১২০ দিন: নতুন নিয়ম, কারা পাবেন, কীভাবে নেবেন

২০২৬ সালের শ্রম আইন সংশোধনে মাতৃত্বকালীন সুবিধা ১১২ দিন থেকে বেড়ে ১২০ দিন হয়েছে: সন্তান জন্মের আগে ৬০ দিন, পরে ৬০ দিন, মজুরিসহ। কী জানা দরকার আর কীভাবে আবেদন করবেন।

ক্যালেন্ডারে ১২০ দিন চিহ্নিত, পাশে মা ও শিশুর আইকন, মাতৃত্বকালীন ছুটির নতুন নিয়ম বোঝাতে

সন্তান আসার খবর আনন্দের, কিন্তু চাকরিজীবী মায়েদের মনে একই সঙ্গে প্রশ্ন জাগে: কত দিন ছুটি পাব, বেতন পাব কি না, ফিরে এসে চাকরি থাকবে তো? ২০২৬ সালে শ্রম আইনে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।

কী বদলেছে

বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০২৬ অনুযায়ী শ্রম আইনের ধারা ৪৬-এ মাতৃত্বকালীন সুবিধার মেয়াদ ১১২ দিন (১৬ সপ্তাহ) থেকে বেড়ে ১২০ দিন হয়েছে:

  • সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের আগে ৬০ দিন
  • প্রসবের পরে ৬০ দিন
  • পুরো সময় মজুরিসহ

এই নিয়ম শ্রম আইনের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের নারী শ্রমিকদের জন্য: কারখানা, দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী আলাদা নিয়ম চলে।

কারা পাবেন

মাতৃত্বকালীন সুবিধা পেতে সাধারণত প্রতিষ্ঠানে একটা ন্যূনতম সময় চাকরি করা থাকতে হয়। আগের আইনে শর্ত ছিল নোটিশ দেওয়ার আগে অন্তত ছয় মাস কাজ করা। সংশোধনের পর শর্তগুলো কীভাবে বদলেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সারসংক্ষেপে ভিন্ন তথ্য আছে, তাই আপনার ক্ষেত্রে শর্ত মিলিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের নীতি বা নিয়োগপত্রে আইনের চেয়ে বেশি দিন থাকলে, সেটাই প্রযোজ্য। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১২০ দিনের বেশি ছুটিও দেয়।

কীভাবে আবেদন করবেন

  • সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ জানার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লিখিতভাবে নিয়োগকর্তাকে জানান।
  • চিকিৎসকের সনদ সঙ্গে দিন, যেখানে সম্ভাব্য তারিখ লেখা।
  • কোন তারিখ থেকে ছুটি শুরু করতে চান, স্পষ্ট লিখুন।
  • আবেদনের একটা কপি রাখুন, আর জমার তারিখ লিখে রাখুন। ইমেইলে দিলে পাঠানো ইমেইল সংরক্ষণ করুন।

মজুরি কীভাবে দেওয়া হয়

মাতৃত্বকালীন সময়ের মজুরি দৈনিক বা সাপ্তাহিক গড় মজুরির ভিত্তিতে হিসাব হয়, আর আইন অনুযায়ী তা আগে-পরে ভাগ করে দেওয়ার নিয়ম আছে। কবে কত পাবেন, ছুটির আগেই মানবসম্পদ বিভাগের কাছ থেকে লিখিত হিসাব চেয়ে নিন।

এই সময়ে চাকরি নিয়ে ভয়

শ্রম আইন গর্ভাবস্থা আর মাতৃত্বকালীন সময়ে নারী শ্রমিককে সুরক্ষা দেয়; শুধু এ কারণে চাকরিচ্যুত করা আইনের পরিপন্থী। এমন কিছু ঘটলে বা ঘটার আশঙ্কা থাকলে সব কাগজ গুছিয়ে রাখুন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের হেল্পলাইন ১৬৩৫৭-এ পরামর্শ নিন। অভিযোগের পুরো পথ আছে বেতন না দিলে কোথায় অভিযোগ করবেন লেখায়।

ফিরে আসার পর

  • ছুটি শেষে আগের পদে, আগের বেতনে যোগ দেওয়ার কথা। কোনো পরিবর্তন হলে লিখিত কারণ চান।
  • শিশুর যত্নের জন্য যে প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি নারী শ্রমিক আছেন, সেখানে শিশুকক্ষ রাখার বিধান আছে। আপনার প্রতিষ্ঠানে আছে কি না জেনে নিন।
  • বাকি অর্জিত ছুটি থাকলে মাতৃত্বকালীন ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায় কি না, জিজ্ঞেস করুন। ছুটির ধরনগুলো জানতে পড়ুন ছুটির নিয়ম।

অন্য মায়েদের সাহায্য করুন

চাকরি খোঁজার সময় অনেক নারী জানতে চান কোন প্রতিষ্ঠানে প্রতিশ্রুত ছুটি সত্যিই নেওয়া যায়। চাকরি কেমন-এ রিভিউতে "প্রতিশ্রুত ছুটি নেওয়া যায় কি না" প্রশ্নটা আছে, আর আপনার পরিচয় কখনো প্রকাশ হয় না। আপনার অভিজ্ঞতা জানাতে রিভিউ লিখুন।

এই লেখা সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। সংশোধিত আইনের পূর্ণ পাঠ bdlaws.minlaw.gov.bd-এ দেখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

মাতৃত্বকালীন ছুটি কত দিন?

শ্রম আইনের ২০২৬ সালের সংশোধন অনুযায়ী ১২০ দিন: সন্তান প্রসবের আগে ৬০ দিন আর পরে ৬০ দিন, মজুরিসহ। আগে ছিল ১১২ দিন।

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে কি পূর্ণ বেতন পাব?

শ্রম আইনের আওতায় থাকা নারী শ্রমিক এই সময়ের জন্য মজুরিসহ সুবিধা পান। কবে কত পাবেন, ছুটির আগেই মানবসম্পদ বিভাগের কাছ থেকে লিখিত হিসাব নিন।

সরকারি চাকরিতেও কি ১২০ দিন?

না, সরকারি চাকরিজীবীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি সরকারি বিধি অনুযায়ী চলে, শ্রম আইন অনুযায়ী নয়। নিজের দপ্তরের বিধি দেখুন।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন