চাকরি কেমন
সব লেখা

কর্মীর অধিকার২৬ অক্টোবর, ২০২৬৫ মিনিটে পড়ুন

নিয়োগপত্র ছাড়া চাকরি: কেন ঝুঁকি, আর নিয়োগপত্রে কী দেখে নেবেন

বাংলাদেশে অনেক কর্মী লিখিত নিয়োগপত্র ছাড়াই কাজ করেন। সমস্যা হয় তখনই, যখন বেতন আটকে যায় বা হঠাৎ চাকরি চলে যায়।

আইন কী বলে

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৫ অনুযায়ী কোনো মালিক নিয়োগপত্র এবং ছবিসহ পরিচয়পত্র না দিয়ে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করতে পারেন না। অর্থাৎ যে কাজগুলো এই আইনের আওতায় পড়ে, সেখানে নিয়োগপত্র পাওয়া আপনার অধিকার, অনুগ্রহ নয়।

কোন পদ বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের আওতায় পড়ে, তা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে। নিজের পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ থাকলে একজন আইনজীবী বা শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের পরামর্শ নিন।

নিয়োগপত্র না থাকলে কী হয়

  • বেতন বা বোনাস আটকে গেলে আপনি যে সেখানে চাকরি করতেন, সেটাই প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যায়।
  • যে বেতনের কথা হয়েছিল, পরে সেটা কম বলে দাবি করা হতে পারে।
  • চাকরি চলে গেলে পাওনা (নোটিশ পে, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি) চাওয়ার ভিত্তি দুর্বল হয়।
  • ব্যাংক ঋণ, ভিসা বা পরের চাকরির জন্য অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিতে সমস্যা হয়।

নিয়োগপত্রে যা অবশ্যই থাকা উচিত

  • আপনার নাম, পদবি আর যোগদানের তারিখ।
  • মোট বেতন আর তার ভাগ (মূল বেতন, বাড়িভাড়া, অন্যান্য ভাতা)।
  • প্রবেশনকাল কতদিন।
  • কর্মঘণ্টা আর ছুটির নিয়ম।
  • চাকরি ছাড়ার বা শেষ করার নোটিশের নিয়ম।
  • প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা আর কর্তৃপক্ষের সই।

চাইলে কী বলবেন

"যোগ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্রটা হাতে পেলে আমার জন্য সুবিধা হয়" — এভাবে ভদ্রভাবে বললেই যথেষ্ট। নিয়োগপত্র আর বেতনের প্রতিটি কাগজ (পে-স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট) গুছিয়ে রাখুন।

চাকরি কেমন-এ রিভিউ দেওয়ার সময় আপনি জানাতে পারেন প্রতিষ্ঠান নিয়োগপত্র দেয় কিনা। অন্তত তিনজন উত্তর দিলে তবেই শতাংশটা দেখানো হয়, তাই কারো পরিচয় বোঝা যায় না।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন