চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি কেমন৩ মিনিটে পড়ুন

চাকরি কেমন-এ রিভিউ কীভাবে যাচাই ও প্রকাশ হয়: মডারেশনের নিয়ম

প্রতিটি রিভিউ প্রকাশের আগে কী দেখা হয়, কোন লেখা প্রকাশ হয় না আর কেন, রিপোর্ট করলে কী হয়, প্রতিষ্ঠান কেন রিভিউ সরাতে পারে না, আর ভুয়া রিভিউ ঠেকাতে কী ব্যবস্থা আছে।

রিভিউ কার্ডগুলো একটি ছাঁকনির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিছু সবুজ টিক আর কিছু লাল চিহ্ন পেয়ে

একটা রিভিউ সাইট তখনই কাজের, যখন পাঠক বিশ্বাস করতে পারেন যে রিভিউগুলো আসল কর্মীর লেখা, আর রিভিউদাতা বিশ্বাস করতে পারেন যে তার লেখা কেউ টাকা দিয়ে মুছে দেবে না। চাকরি কেমন-এর মডারেশন নীতি এই দুই বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে। এখানে খোলাখুলি জানানো হলো রিভিউ কীভাবে যাচাই হয় আর কোন নিয়মে প্রকাশ হয়।

প্রতিটি রিভিউ প্রকাশের আগে পড়া হয়

কোনো রিভিউ জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ হয় না। প্রথমে যায় মডারেশনের তালিকায়, যেখানে একজন মডারেটর পড়ে সিদ্ধান্ত নেন: প্রকাশ, নাকি প্রত্যাখ্যান। বেতনের তথ্য, ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতা আর প্রতিষ্ঠানের জবাবও একইভাবে যাচাই হয়।

জমার আগেই যা আটকে যায়

রিভিউ লেখার সময়ই কিছু জিনিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে দেওয়া হয়:

  • ব্যক্তির নাম, বাংলা বা ইংরেজিতে, সম্মানসূচক শব্দসহ (যেমন "জনাব অমুক", "অমুক স্যার")।
  • ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, ওয়েবসাইটের লিংক আর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল।

এই ছাঁকনি কখনো কখনো নির্দোষ লেখাকেও আটকে দেয়। সেটা ইচ্ছাকৃত: একটা লেখা আবার লিখতে এক মিনিট লাগে, কিন্তু কারও নাম প্রকাশ হলে রিভিউদাতা আর সাইট দুজনেরই আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়।

কোন রিভিউ প্রকাশ হয় না

  • কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ বা আক্রমণ, নাম ছাড়াও যদি চেনা যায়।
  • গালিগালাজ, ঘৃণাসূচক বা হুমকিমূলক ভাষা।
  • প্রমাণ ছাড়া অপরাধের নির্দিষ্ট দাবি, তথ্য হিসেবে উপস্থাপিত।
  • প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য, যেমন অভ্যন্তরীণ নথি বা গ্রাহকের তথ্য।
  • স্পষ্টতই বিজ্ঞাপন বা অপ্রাসঙ্গিক লেখা।
  • একই ব্যক্তির একাধিক রিভিউ একই প্রতিষ্ঠানে।

রিভিউ মতামত হিসেবে লেখা হলে ("আমার অভিজ্ঞতায় ব্যবস্থাপনা কর্মীদের কথা শোনে না") সেটা প্রকাশযোগ্য, নেতিবাচক হলেও। নেতিবাচক রিভিউ সরানো হয় না শুধু নেতিবাচক বলে। কীভাবে লিখলে রিভিউ কাজের আর নিরাপদ হয়: কাজে লাগে এমন রিভিউ লিখুন।

ভুয়া রিভিউ ঠেকাতে

  • ইমেইল যাচাই: প্রতিটি রিভিউ একটা যাচাই করা ইমেইলের সঙ্গে যুক্ত, যদিও সেটা কখনো প্রকাশ হয় না।
  • এক প্রতিষ্ঠানে একটা রিভিউ: একজন একই প্রতিষ্ঠানে একবারই রিভিউ দিতে পারেন।
  • সময় আর আইপির হ্যাশ: প্রতিটি রিভিউর সঙ্গে সময় আর আইপি ঠিকানার একটা হ্যাশ রাখা হয় (একমুখী সংকেত, যা থেকে আসল ঠিকানা ফেরত পাওয়া যায় না), যাতে ভুয়া রিভিউর অভিযোগ উঠলে তথ্য দিয়ে উত্তর দেওয়া যায়।
  • মডারেটরের চোখ: হঠাৎ একই ধরনের অনেক রিভিউ এলে আলাদা করে দেখা হয়।
  • কর্ম-ইমেইল যাচাইয়ের চিহ্ন: যারা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ইমেইল দিয়ে যাচাই করেছেন, তাদের রিভিউতে আলাদা চিহ্ন। পড়ুন কর্ম-ইমেইল যাচাই কী, কেন।

রিপোর্ট করলে কী হয়

প্রকাশিত কোনো রিভিউতে সমস্যা মনে হলে যে কেউ "রিপোর্ট" করতে পারেন, কারণ বেছে নিয়ে (যেমন ব্যক্তির নাম আছে, ভুয়া রিভিউ, গোপনীয় তথ্য)। রিপোর্ট করলেই রিভিউ সরে যায় না; একজন মডারেটর দেখে সিদ্ধান্ত নেন। নইলে যে কেউ অপছন্দের রিভিউ রিপোর্ট করে চুপ করিয়ে দিতে পারত।

সরানো রিভিউ মুছে ফেলা হয় না, শুধু প্রকাশ বন্ধ হয়, যাতে পরে কোনো বিরোধ হলে রেকর্ড থাকে।

প্রতিষ্ঠান কী পারে, কী পারে না

  • পারে: যাচাই করা প্রতিনিধির মাধ্যমে রিভিউর প্রকাশ্য জবাব দিতে। জবাবও মডারেশনের মধ্য দিয়ে যায়।
  • পারে না: টাকা দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে রিভিউ সরাতে, লুকাতে বা ক্রম বদলাতে। প্রতিনিধিরা দেখতে পান না কে রিভিউ লিখেছেন।
  • আইনগত অনুরোধ: কোনো রিভিউ আইন ভঙ্গ করছে মনে হলে প্রতিষ্ঠান যোগাযোগের পাতা থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠাতে পারে; প্রকাশিত সময়সীমার মধ্যে তার উত্তর দেওয়া হয়, আর সিদ্ধান্ত হয় নির্দেশিকা অনুযায়ী।

পুরো নির্দেশিকা পড়ুন রিভিউ নীতিমালায়।

রিভিউর ক্রম কীভাবে ঠিক হয়

পাঠকেরা যেসব রিভিউকে "সহায়ক" ভোট দেন, সেগুলো আগে দেখায়। এই ক্রম ঠিক করেন পাঠক, কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।

আপনার রিভিউ প্রকাশ না হলে

সাধারণত কারণ হলো লেখায় নাম বা ব্যক্তিকে নিয়ে মন্তব্য। নির্দেশিকা দেখে প্রতিষ্ঠান আর কাজের পরিবেশ নিয়ে লিখে আবার চেষ্টা করুন: রিভিউ দিন।

সাধারণ প্রশ্ন

নেতিবাচক রিভিউ কি সরিয়ে দেওয়া হয়?

না, শুধু নেতিবাচক বলে নয়। রিভিউ সরানো হয় নির্দেশিকা ভঙ্গ করলে, যেমন ব্যক্তির নাম, গালিগালাজ বা গোপনীয় তথ্য থাকলে।

রিপোর্ট করলে কি রিভিউ সঙ্গে সঙ্গে সরে যায়?

না। একজন মডারেটর দেখে সিদ্ধান্ত নেন। রিপোর্টেই সরে গেলে যে কেউ অপছন্দের রিভিউ চুপ করিয়ে দিতে পারত।

ভুয়া রিভিউ কীভাবে ঠেকানো হয়?

প্রতিটি রিভিউ যাচাই করা ইমেইলের সঙ্গে যুক্ত, এক প্রতিষ্ঠানে একজনের একটাই রিভিউ, সময় আর হ্যাশ করা আইপির রেকর্ড রাখা হয়, আর প্রকাশের আগে মডারেটর পড়েন।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন