চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি কেমন৩ মিনিটে পড়ুন

নাম গোপন রেখে বেতন জানানো কেন জরুরি, আর চাকরি কেমন কীভাবে আপনাকে আড়াল রাখে

বাংলাদেশে বেতন নিয়ে গোপনীয়তা কেন কর্মীদের ক্ষতি করে, নাম ছাড়া বেতন জানালে কী লাভ, অন্তত তিনজনের নিয়ম কীভাবে আপনাকে চিহ্নিত হওয়া থেকে বাঁচায়, আর বেতন জানানোর ধাপ।

মুখোশের আড়ালে একটি হাত টাকার অঙ্ক লেখা কার্ড একটি বড় তালিকায় যোগ করছে

আমাদের দেশে বেতন নিয়ে কথা বলা প্রায় নিষিদ্ধ বিষয়। সহকর্মী কত পান, জানতে চাওয়া অভদ্রতা; নিজের বেতন বলা বিপজ্জনক। এর ফল কী? নিয়োগকর্তা জানেন বাজারে কে কত পায়, কিন্তু কর্মী জানেন না। আর এই তথ্যের অসমতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে নতুন চাকরিপ্রার্থী, নারী কর্মী আর ঢাকার বাইরের কর্মীদের, যারা জানেনই না তাদের ন্যায্য বেতন কত হওয়া উচিত।

বেতন গোপন থাকলে কার লাভ

  • একই কাজে অসম বেতন টিকে থাকে। কেউ জানেন না, তাই কেউ প্রশ্নও তোলেন না।
  • নতুনরা কম বেতনে আটকে যান। ফ্রেশার বাজার দর না জেনে প্রথম অফারেই রাজি হন, আর পরের প্রতিটি ইনক্রিমেন্ট সেই কম ভিত্তি থেকে হিসাব হয়।
  • দর-কষাকষি অসম্ভব হয়। "আপনার প্রত্যাশা কত?" প্রশ্নের উত্তর অনুমানে দিতে হয়।
  • ভালো প্রতিষ্ঠান আলাদা হয় না। যারা ন্যায্য বেতন দেয়, তাদের সুনাম ছড়ায় না।

নাম ছাড়া বেতন জানালে কী হয়

আপনি যখন চাকরি কেমন-এ নাম প্রকাশ না করে বেতন জানান:

আপনাকে কীভাবে আড়াল রাখা হয়

১. নাম আর ইমেইল কোথাও দেখানো হয় না। বেতনের তথ্যের সঙ্গে শুধু পদবি, চাকরির ধরন আর অভিজ্ঞতার বছর সংরক্ষিত হয়।

২. অন্তত তিনজনের নিয়ম। কোনো প্রতিষ্ঠানে একটা পদের বেতন দেখানো হয় শুধু তখন, যখন অন্তত তিনজন সেই পদের বেতন জানিয়েছেন। তখনো একেকজনের বেতন আলাদা করে নয়, দেখানো হয় মধ্যমা আর পরিসর। একজন বা দুজনের তথ্য থাকলে সাইটে লেখা থাকে "যথেষ্ট তথ্য নেই"। এতে আপনার বেতন দেখে আপনাকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়।

৩. একই নিয়ম অন্য তথ্যেও। কর্মস্থলের তথ্যের শতাংশ (যেমন কত শতাংশ বলেছেন বেতন সময়মতো আসে) আর ইন্টারভিউর সারাংশেও অন্তত তিনজনের নিয়ম প্রযোজ্য।

৪. প্রতিষ্ঠান জানতে পারে না কে জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রিভিউর জবাব দিতে পারেন, কিন্তু কে লিখেছেন বা কে বেতন জানিয়েছেন তা দেখতে পান না।

৫. মডারেশন। প্রতিটি বেতনের তথ্য প্রকাশের আগে মডারেটর দেখেন, যাতে অস্বাভাবিক বা ভুল তথ্য বাদ পড়ে।

নিজে আরও সতর্ক থাকতে চাইলে

  • পদবি একটু সাধারণ রাখুন, যদি আপনার পদে প্রতিষ্ঠানে মাত্র একজন থাকেন।
  • সাম্প্রতিক বেতন বৃদ্ধির পরপরই না জানিয়ে কিছুদিন পরে জানাতে পারেন।
  • রিভিউর লেখায় এমন তথ্য দেবেন না যা শুধু আপনিই জানেন।

বেতন জানানোর ধাপ

  • বেতন জানানোর ফর্ম খুলুন।
  • প্রতিষ্ঠান খুঁজে বেছে নিন।
  • পদবি, চাকরির ধরন, মাসিক মোট বেতন, বছরে বোনাস (মোট), অভিজ্ঞতার বছর আর শহর দিন।
  • জমা দিন; লগইন না থাকলে ইমেইলে আসা ৬ সংখ্যার কোড দিন।

মাসিক বেতন লিখুন মোট (গ্রস) হিসেবে, যাতে সবার তথ্য একইভাবে তুলনা করা যায়। মোট আর নেটের পার্থক্য: গ্রস আর নেট বেতন। আয়কর ক্যালকুলেটর থেকেও সরাসরি বেতন জানানো যায়, বেতনের ঘর আগে থেকে পূরণ করা অবস্থায়: আয়কর ক্যালকুলেটর।

তথ্য দিলে তথ্য পান

প্রতিষ্ঠানের পেজে প্রথম দুটো পদের বেতন সবার জন্য খোলা। বাকি পদগুলো দেখতে একবার নিজের বেতন, রিভিউ বা ইন্টারভিউর তথ্য দিন। এটা তালা নয়, আমন্ত্রণ: যত বেশি মানুষ দেন, তালিকা তত সম্পূর্ণ হয়।

একটা বেতনের তথ্য দিতে এক মিনিট লাগে। সেই এক মিনিট হয়তো অন্য কাউকে কম বেতনের অফার থেকে বাঁচাবে। এখনই বেতন জানান।

সাধারণ প্রশ্ন

বেতন জানালে কি প্রতিষ্ঠান জানতে পারবে আমি জানিয়েছি?

না। নাম বা ইমেইল দেখানো হয় না, আর একটা পদের বেতন দেখানো হয় অন্তত তিনজনের তথ্য জমা হলে, মধ্যমা ও পরিসর হিসেবে, একেকজনের আলাদা করে নয়।

বেতন মোট লিখব না হাতে পাওয়া?

মাসিক মোট (গ্রস) বেতন, কর আর অন্যান্য কর্তনের আগের অঙ্ক। এতে সবার তথ্য একইভাবে তুলনা করা যায়।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন