চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি খোঁজা৩ মিনিটে পড়ুন

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট অনলাইনে: আবেদন, কাগজপত্র আর যাচাইয়ের ধাপ

বিদেশে চাকরি বা অনেক দেশি নিয়োগে লাগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন, কী কাগজ লাগে, ফি কোথায় দেবেন, যাচাই কীভাবে হয় আর সনদ কোথা থেকে নেবেন।

অনলাইন ফরমের পাশে সিলমোহর দেওয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ আর পাসপোর্ট

বিদেশে চাকরি, অভিবাসন, উচ্চশিক্ষা, আবার দেশের কিছু নিয়োগেও একটা কাগজ চাওয়া হয়: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, সংক্ষেপে পিসিসি। এটা পুলিশের দেওয়া সনদ, যেখানে বলা থাকে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে কোনো অপরাধের তথ্য নেই। আবেদন এখন অনলাইনে করা যায়। প্রক্রিয়াটা জানা থাকলে দালাল ছাড়া নিজেই করা সহজ।

নিয়ম, ফি আর প্রয়োজনীয় কাগজ সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।

কারা, কখন আবেদন করবেন

  • বিদেশে চাকরি বা অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় যারা আছেন। সংশ্লিষ্ট দেশ বা নিয়োগকর্তা সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইস্যু করা সনদ চায়, তাই খুব আগে নিয়ে রাখলে মেয়াদের প্রশ্ন উঠতে পারে।
  • উচ্চশিক্ষা বা ভিসার আবেদনে চাইলে।
  • দেশের কোনো নিয়োগকর্তা যোগদানের সময় চাইলে।

অনলাইনে আবেদনের ধাপ

১. সরকারি ওয়েবসাইটে যান। বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ওয়েবসাইট (pcc.police.gov.bd)। অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা "এজেন্ট" এর মাধ্যমে নয়।

২. অ্যাকাউন্ট খুলুন। সাধারণত ইমেইল আর মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে যাচাই কোড দিয়ে নিশ্চিত করতে হয়।

৩. আবেদন ফরম পূরণ করুন।

  • ব্যক্তিগত তথ্য: নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
  • পাসপোর্টের তথ্য: সাধারণত পাসপোর্ট নম্বর আর মেয়াদ চাওয়া হয়, কারণ সনদ অনেক সময় পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
  • ঠিকানা: বর্তমান ঠিকানা, যে থানা এলাকায় যাচাই হবে। ঠিকানা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ দিন; ভুল থানা দিলে যাচাই আটকে যায়।

৪. কাগজপত্র আপলোড। সাধারণত পাসপোর্টের তথ্যপাতা, জাতীয় পরিচয়পত্র, আর বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ (যেমন বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি) চাওয়া হয়। ওয়েবসাইটের তালিকা অনুযায়ী দিন।

৫. ফি জমা দিন। নির্ধারিত সরকারি ফি অনলাইনে, ওয়েবসাইটে দেওয়া পদ্ধতিতে (যেমন সরকারি ই-পেমেন্ট বা ব্যাংক চালান)। রসিদ বা চালানের নম্বর সংরক্ষণ করুন।

৬. জমা দিয়ে আবেদন নম্বর রাখুন। এই নম্বর দিয়ে আবেদনের অবস্থা দেখা যায়।

যাচাই কীভাবে হয়

আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট থানা বা বিশেষ শাখা থেকে ঠিকানা যাচাই হয়। কেউ বাসায় আসতে পারেন, বা ফোন করতে পারেন। এ সময়:

  • দেওয়া মোবাইল নম্বর চালু রাখুন।
  • মূল জাতীয় পরিচয়পত্র আর পাসপোর্ট হাতের কাছে রাখুন।
  • যাচাইয়ের জন্য কেউ টাকা চাইলে দেবেন না। সরকারি ফি অনলাইনে জমা হয়েছে; আলাদা কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। এমন হলে অভিযোগ জানানোর পথ ওয়েবসাইটে বা পুলিশের অভিযোগ ব্যবস্থায় খুঁজে নিন।

সনদ কোথা থেকে নেবেন

যাচাই শেষে আবেদনের অবস্থা বদলে যায়, আর সাধারণত এসএমএস বা ইমেইলে জানানো হয়। তারপর নির্ধারিত অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করতে হয়, অথবা ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুযায়ী। সংগ্রহের সময় আবেদনের কপি আর মূল পরিচয়পত্র নিয়ে যান।

সনদ হাতে পেয়ে মিলিয়ে নিন নাম, পাসপোর্ট নম্বর আর জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না। বিদেশে জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন লাগতে পারে; সংশ্লিষ্ট দেশের নির্দেশনা দেখুন।

কত দিন লাগে

যাচাইয়ের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে, সাধারণত কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। তাই নিয়োগকর্তা বা দূতাবাসের সময়সীমা মাথায় রেখে আগেভাগে আবেদন করুন। ওয়েবসাইটে আবেদনের অবস্থা নিয়মিত দেখুন।

সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

  • ঠিকানা যাচাই আটকে আছে। অনেক সময় বর্তমান ঠিকানায় আবেদনকারীকে পাওয়া যায় না। যাচাইকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর থাকলে ফোন করুন।
  • পাসপোর্টের তথ্য আর পরিচয়পত্রের অমিল। নামের বানান বা জন্মতারিখ মেলাতে আগে সংশ্লিষ্ট নথি সংশোধন করুন।
  • বিদেশে আছেন। বিদেশ থেকে আবেদনের ব্যবস্থাও সাধারণত থাকে, দেশের সর্বশেষ ঠিকানার ভিত্তিতে। ওয়েবসাইটের নির্দেশনা দেখুন।
  • ভুল তথ্য দিয়ে জমা দিয়েছেন। ফি জমার আগে হলে নতুন আবেদন করুন; পরে হলে ওয়েবসাইটের সহায়তা অংশে যোগাযোগ করুন।

দালাল এড়িয়ে চলুন

পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নিজে করা যায়। "দ্রুত করে দেব" বলে বাড়তি টাকা চাইলে এড়িয়ে চলুন। বিদেশে চাকরির প্রক্রিয়ায় পিসিসি একটা ধাপ মাত্র; পুরো নিরাপদ পথ জানতে পড়ুন বিদেশে চাকরি: বিএমইটি নিবন্ধন ও নিরাপদ পথ।

আরও যা প্রস্তুত রাখবেন

বিদেশে চাকরির জন্য প্রায়ই অভিজ্ঞতা সনদও লাগে, অনেক সময় ইংরেজিতে, নির্দিষ্ট তথ্যসহ। কী লাগে জানতে পড়ুন অভিজ্ঞতা সনদ লেখার নিয়ম। আর নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চিঠি লাগলে দেখুন অনাপত্তি সনদের আবেদন।

সাধারণ প্রশ্ন

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন কোথায় করতে হয়?

বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ওয়েবসাইটে (pcc.police.gov.bd), অনলাইনে। ফি অনলাইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দিতে হয়।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য কি পাসপোর্ট লাগে?

সাধারণত হ্যাঁ, পাসপোর্টের তথ্য আর কপি চাওয়া হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র আর ঠিকানার প্রমাণও লাগে। সর্বশেষ তালিকা ওয়েবসাইটে দেখে নিন।

যাচাইয়ের সময় কেউ টাকা চাইলে কী করব?

দেবেন না। সরকারি ফি অনলাইনে জমা হয়; যাচাইয়ের জন্য আলাদা টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। এমন ঘটনা পুলিশের অভিযোগ ব্যবস্থায় জানাতে পারেন।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন