চাকরি খোঁজা৫ মিনিটে পড়ুন
অনাপত্তি সনদ (NOC) এর আবেদন: চাকরিতে থেকে অন্য চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা পাসপোর্টের জন্য
চাকরিরত অবস্থায় অন্য চাকরিতে আবেদন, উচ্চশিক্ষা, বিদেশ ভ্রমণ বা পাসপোর্টের জন্য অনাপত্তি সনদ কেন লাগে, কীভাবে চাইবেন, আর চারটি নমুনা আবেদন।

সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরিতে থেকে অন্য চাকরিতে আবেদন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, এমনকি পাসপোর্ট করতে গেলেও প্রায়ই একটা কাগজের কথা আসে: অনাপত্তি সনদ, ইংরেজিতে No Objection Certificate বা NOC। এটা বর্তমান নিয়োগকর্তার দেওয়া একটা লিখিত ঘোষণা যে নির্দিষ্ট কাজটিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। বেসরকারি চাকরিতেও কিছু ক্ষেত্রে, যেমন বিদেশ ভ্রমণের ভিসা বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সময়, নিয়োগকর্তার এমন চিঠি চাওয়া হয়।
এখানে পাবেন কোথায় NOC লাগে, কীভাবে আবেদন করবেন, আর চারটি পরিস্থিতির নমুনা।
কোথায় অনাপত্তি সনদ লাগে
- চাকরিরত অবস্থায় অন্য চাকরির আবেদন। অনেক সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে, অথবা ভাইভার সময় অনাপত্তি সনদ দেখাতে হবে।
- পাসপোর্টের আবেদন। সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ বা অনুমতিপত্র লাগে। সর্বশেষ নিয়ম পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেখে নিন।
- বিদেশ ভ্রমণ বা ভিসা। অনেক দেশের ভিসা আবেদনে নিয়োগকর্তার চিঠি চাওয়া হয়, যেখানে ছুটি মঞ্জুর আর ফিরে এসে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকে।
- উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ। চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা বা বৃত্তিতে আবেদন করলে।
- খণ্ডকালীন অন্য কাজ। কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি অন্য কোথাও কাজ করতে অনুমতি লাগে।
আবেদনে যা লিখবেন
- আপনার নাম, পদবি, কর্মী নম্বর আর যোগদানের তারিখ।
- কোন উদ্দেশ্যে NOC দরকার, নির্দিষ্ট করে: কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদে আবেদন, কোন দেশে কত দিনের ভ্রমণ, কোন কোর্সে ভর্তি।
- সনদে কোন তথ্য থাকা দরকার, যদি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নির্দিষ্ট ছক চেয়ে থাকে।
- আশ্বাস: এতে বর্তমান দায়িত্বে ব্যাঘাত হবে না, বা নির্বাচিত হলে নিয়ম মেনে বর্তমান চাকরি থেকে অব্যাহতি নেবেন।
- সংযুক্তি: বিজ্ঞপ্তির কপি, ভর্তির চিঠি, ভ্রমণের পরিকল্পনা।
নমুনা ১: অন্য চাকরিতে আবেদনের জন্য
তারিখ: [দিন/মাস/বছর]
বরাবর [নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদবি] [দপ্তর/প্রতিষ্ঠান] (যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে)
বিষয়: অনাপত্তি সনদ প্রদানের আবেদন।
জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি [নাম], [পদবি], [তারিখ] থেকে এই দপ্তরে কর্মরত। [প্রতিষ্ঠানের নাম]-এ "[পদের নাম]" পদে নিয়োগের জন্য [তারিখ] তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কর্মরত প্রার্থীদের বর্তমান নিয়োগকর্তার অনাপত্তি সনদ জমা দিতে হবে।
উক্ত পদে আবেদনের জন্য আমাকে একটি অনাপত্তি সনদ প্রদানের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্বাচিত হলে বিধি মোতাবেক বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে যোগদান করব।
বিনীত [নাম] [পদবি], [দপ্তর]
নমুনা ২: বিদেশ ভ্রমণ বা ভিসার জন্য
"আগামী [তারিখ] থেকে [তারিখ] পর্যন্ত [দেশ]-এ [উদ্দেশ্য, যেমন: পারিবারিক ভ্রমণ / চিকিৎসা] যাওয়ার জন্য আমার অর্জিত ছুটি মঞ্জুর হয়েছে (ছুটির আদেশ সংযুক্ত)। ভিসার আবেদনের জন্য একটি অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন, যেখানে আমার পদবি, চাকরির মেয়াদ, মাসিক বেতন, ছুটির সময়কাল এবং ছুটি শেষে কাজে যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। অনুগ্রহ করে ইংরেজিতে একটি অনাপত্তিপত্র প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকব।"
ভিসার জন্য চিঠি সাধারণত ইংরেজিতে লাগে, আর দূতাবাস নির্দিষ্ট কিছু তথ্য চায়। দূতাবাসের তালিকা এইচআরকে দিন।
নমুনা ৩: উচ্চশিক্ষার জন্য
"আমি [বিশ্ববিদ্যালয়]-এর [কোর্স]-এ সান্ধ্যকালীন/সাপ্তাহিক ছুটির দিনের প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছি (ভর্তির চিঠি সংযুক্ত)। ক্লাস অফিস সময়ের বাইরে হওয়ায় আমার দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। ভর্তির জন্য একটি অনাপত্তি সনদ প্রদানের অনুরোধ জানাচ্ছি।"
নমুনা ৪: পাসপোর্টের জন্য (সরকারি চাকরিজীবী)
"আমি [পদবি], [দপ্তর]-এ কর্মরত। পাসপোর্ট [নতুন/নবায়ন] করার জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে নির্ধারিত ছকে অনাপত্তি সনদ প্রদানের ব্যবস্থা নিলে বাধিত হব।"
পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্দিষ্ট ছক থাকে। ছক থাকলে সেটা পূরণ করে জমা দিন।
ইংরেজিতে অনাপত্তিপত্রের নমুনা (প্রতিষ্ঠান যা দেয়)
ভিসা বা বিদেশে ভর্তির জন্য প্রায়ই ইংরেজি চিঠি লাগে। এইচআর খসড়া চাইলে এই কাঠামো দিতে পারেন:
"TO WHOM IT MAY CONCERN
This is to certify that [full name], holder of passport no. [number], has been working with [organisation] as [designation] since [joining date]. [His/Her] current monthly salary is BDT [amount]. [He/She] has been granted leave from [date] to [date] to visit [country] for [purpose]. We have no objection to [his/her] travel, and [he/she] will resume duties on [date] after the leave.
[Signature] [Name], [Designation] [Organisation, address, phone, email]"
দূতাবাস সাধারণত চিঠিতে প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর আর ইমেইল চায়, যাতে যাচাই করতে পারে। চিঠিতে লেখা বেতন আর ছুটির তারিখ যেন অন্যান্য কাগজের সঙ্গে মেলে।
কত দিন আগে আবেদন করবেন
- অন্য চাকরির আবেদন: বিজ্ঞপ্তির শেষ তারিখের অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে। সরকারি দপ্তরে অগ্রায়ণে সময় লাগে।
- ভিসা: ভিসার আবেদনের তারিখের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে, আর ছুটি মঞ্জুরের পর।
- পাসপোর্ট: আবেদন জমার আগেই, কারণ NOC ছাড়া অনলাইন ফরম সম্পূর্ণ হয় না।
- উচ্চশিক্ষা: ভর্তির চিঠি হাতে পাওয়ার পরপরই।
তাড়াহুড়োয় শেষ মুহূর্তে আবেদন করলে সনদ সময়মতো না-ও পেতে পারেন। আর বিজ্ঞপ্তির শর্ত না মানলে আবেদন বাতিল হয়।
সাধারণ ভুল
- উদ্দেশ্য অস্পষ্ট রাখা। "বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য" লিখলে কর্তৃপক্ষ সনদ দিতে দ্বিধা করে।
- কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে আবেদন পাঠানো।
- একটা NOC দিয়ে একাধিক উদ্দেশ্যে কাজ চালানোর চেষ্টা।
- সনদে নাম বা পাসপোর্ট নম্বরের বানান না মিলিয়ে জমা দেওয়া।
NOC হাতে পেয়ে যা মিলিয়ে নেবেন
- নামের বানান, পদবি আর কর্মী নম্বর ঠিক আছে কি না।
- উদ্দেশ্যটা সঠিকভাবে লেখা কি না, যেমন কোন পদের জন্য, কোন দেশে, কোন তারিখে।
- অনুমোদিত কর্মকর্তার স্বাক্ষর, নাম, পদবি, সিল আর তারিখ।
- মেয়াদ: কিছু NOC নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধ থাকে।
NOC দিতে না চাইলে
কর্তৃপক্ষ কাজের প্রয়োজন দেখিয়ে আপত্তি করতে পারে। তখন:
- লিখিতভাবে কারণ জানতে চান।
- বিকল্প প্রস্তাব দিন, যেমন দায়িত্ব কে সামলাবেন, ছুটির সময় বদলানো।
- সরকারি চাকরিতে প্রযোজ্য বিধিমালা দেখুন, অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে।
বেসরকারি চাকরিতে অন্য চাকরিতে আবেদনের জন্য সাধারণত NOC লাগে না। নতুন চাকরি নিশ্চিত হলে নিয়ম মেনে নোটিশ দিয়ে ইস্তফা দিলেই হয়। নোটিশের নিয়ম জানতে পড়ুন ইস্তফাপত্র ও নোটিশ পিরিয়ড।
বর্তমান কর্মস্থলের খবর না জানিয়ে চাকরি খোঁজা
বেসরকারি চাকরিতে অনেকে বর্তমান প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে চাকরি খোঁজেন, আর সেটা স্বাভাবিক। তখন নতুন প্রতিষ্ঠানকে বলে রাখুন যে রেফারেন্স হিসেবে বর্তমান ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে যোগাযোগ যেন অফার চূড়ান্ত হওয়ার পরে করা হয়। রেফারেন্স কাকে দেবেন, তা নিয়ে পড়ুন সিভি লেখার নিয়ম।
নতুন প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে সেখানকার কর্মীদের অভিজ্ঞতা দেখে নিন চাকরি কেমন-এ: প্রতিষ্ঠান খুঁজুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বেসরকারি চাকরিতে অন্য চাকরিতে আবেদনের জন্য কি NOC লাগে?
সাধারণত না। NOC বেশি লাগে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে, আর ভিসা বা উচ্চশিক্ষার মতো নির্দিষ্ট কাজে।
ভিসার জন্য নিয়োগকর্তার চিঠিতে কী থাকতে হয়?
সাধারণত পদবি, চাকরির মেয়াদ, মাসিক বেতন, ছুটির সময়কাল আর ছুটি শেষে কাজে ফেরার নিশ্চয়তা। দূতাবাসের নির্দিষ্ট তালিকা থাকলে সেটা এইচআরকে দিন।
যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন
যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।
আরো পড়ুন

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
চাকরির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: নমুনাসহ সহজ গাইড
সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আবেদনপত্রে কী লিখবেন, কোন ক্রমে লিখবেন, কোন ভুলে আবেদন বাদ পড়ে, আর কপি করে ব্যবহার করার মতো দুটি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
যোগদানপত্র লেখার নিয়ম: নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার চিঠির নমুনা
নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথম দিনে যোগদানপত্র কীভাবে লিখবেন, কী কী কাগজ সঙ্গে নেবেন, আর সরকারি ও বেসরকারি চাকরির জন্য নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
অভিজ্ঞতা সনদ লেখার নিয়ম: নমুনা, কী থাকবে আর কীভাবে চাইবেন
চাকরি ছাড়ার সময় অভিজ্ঞতা সনদ কেন দরকার, সনদে কী কী তথ্য থাকা উচিত, প্রতিষ্ঠান দিতে না চাইলে কী করবেন, আর বাংলা ও ইংরেজি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৫ মিনিটে পড়ুন
বদলির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: সরকারি ও বেসরকারি চাকরির নমুনা
পারিবারিক কারণ, অসুস্থতা বা স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকার জন্য বদলির আবেদন কীভাবে লিখবেন, কোন যুক্তি কাজে লাগে, কোন পথে পাঠাবেন, আর তিনটি নমুনা।