Chakri Kemon
All articles

Your rights3 min read

ইস্তফাপত্র লেখার নিয়ম, নোটিশ পিরিয়ড আর চাকরি ছাড়ার সময় পাওনা

শ্রম আইনের ধারা ২৭ অনুযায়ী স্থায়ী শ্রমিককে ইস্তফার আগে ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হয়। নমুনা ইস্তফাপত্র, নোটিশ না দিলে কী হয় আর চূড়ান্ত পাওনার চেকলিস্ট।

খামে ইস্তফাপত্র, ক্যালেন্ডারে ৬০ দিনের নোটিশ পিরিয়ড চিহ্নিত আর পাওনার চেকলিস্ট

নতুন চাকরি পেয়েছেন, বা এখানে আর মন টিকছে না। চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় ভুল হয় তাড়াহুড়োয়: নোটিশ না দিয়ে চলে যাওয়া, পাওনার হিসাব না নেওয়া, প্রশংসাপত্র ছাড়া বিদায়। একটু গুছিয়ে ছাড়লে পাওনা আর সুনাম দুটোই থাকে।

নোটিশ পিরিয়ড: আইন কী বলে

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা ২৭ অনুযায়ী:

  • স্থায়ী শ্রমিক মালিককে ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ দিয়ে ইস্তফা দিতে পারেন।
  • অস্থায়ী শ্রমিক মাসিক মজুরিপ্রাপ্ত হলে ৩০ দিনের, অন্যরা ১৪ দিনের লিখিত নোটিশ দেবেন।
  • নোটিশ ছাড়া ইস্তফা দিতে চাইলে নোটিশের সময়ের সমান মজুরি মালিককে দিয়ে তা করা যায়।

আপনার নিয়োগপত্রে আলাদা নোটিশ পিরিয়ড লেখা থাকলে সেটাও দেখুন; অনেক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে যাঁরা শ্রম আইনের "শ্রমিক" সংজ্ঞার বাইরের পদে, চুক্তিতে এক থেকে তিন মাস নোটিশ রাখে।

না জানিয়ে অনুপস্থিত থাকলে

ধারা ২৭(৩ক) অনুযায়ী কেউ নোটিশ বা অনুমতি ছাড়া দশ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে মালিক তাঁকে কারণ জানাতে আর কাজে যোগ দিতে দশ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেবেন। এরপরও যোগ না দিলে বা ব্যাখ্যা না দিলে আরও সাত দিন সময় দেওয়া হয়; তারপর তাঁকে অনুপস্থিতির দিন থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়া হিসেবে ধরা হয়। তাই না বলে চলে যাওয়ার চেয়ে নিয়ম মেনে ইস্তফা দেওয়া সবসময় ভালো।

ইস্তফাপত্রে কী লিখবেন

ছোট, ভদ্র আর স্পষ্ট রাখুন। কারণের বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা অভিযোগ লেখার দরকার নেই।

  • তারিখ, প্রাপকের পদ আর প্রতিষ্ঠানের নাম
  • আপনার নাম, পদ, কর্মী আইডি
  • কোন তারিখ থেকে ইস্তফা কার্যকর হবে, নোটিশ পিরিয়ড মেনে
  • দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে সহযোগিতার আশ্বাস
  • চূড়ান্ত পাওনা আর অভিজ্ঞতা সনদের অনুরোধ
  • ধন্যবাদ আর সই

নমুনা ইস্তফাপত্র

তারিখ: ... বরাবর, ব্যবস্থাপক, মানবসম্পদ বিভাগ, [প্রতিষ্ঠানের নাম] বিষয়: চাকরি থেকে ইস্তফা

জনাব, আমি [নাম], [পদ], কর্মী আইডি [নম্বর], ব্যক্তিগত কারণে চাকরি থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। নোটিশ পিরিয়ড মেনে আমার শেষ কর্মদিবস হবে [তারিখ]। এই সময়ে আমার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে সব রকম সহযোগিতা করব। আমার চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ এবং অভিজ্ঞতা সনদ প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি। এখানে কাজের সুযোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

বিনীত, [নাম ও সই]

ইস্তফাপত্র দুই কপি করুন; এক কপিতে প্রাপ্তির সই ও তারিখ নিয়ে নিজের কাছে রাখুন। ইমেইলে দিলে পাঠানো ইমেইল সংরক্ষণ করুন।

চূড়ান্ত পাওনার চেকলিস্ট

  • শেষ মাসের কাজ করা দিনের মজুরি
  • না নেওয়া অর্জিত ছুটির মজুরি; কত দিন জমা, হিসাব করুন অর্জিত ছুটির ক্যালকুলেটরে
  • বকেয়া ওভারটাইম
  • প্রভিডেন্ট ফান্ডে আপনার আর প্রতিষ্ঠানের অংশ, ফান্ডের নিয়ম অনুযায়ী
  • আইনে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ বা গ্র্যাচুইটি, যেখানে প্রযোজ্য
  • উৎসে কাটা করের সনদ, পরের রিটার্নের জন্য; পড়ুন উৎসে কর কাটার লেখা

স্থায়ী শ্রমিকের ইস্তফায় চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের বিধান আছে, যা শ্রম (সংশোধন) আইন ২০২৬-এ প্রতিস্থাপিত হয়েছে। নতুন ধাপগুলো নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য আছে, তাই অঙ্ক এখানে দিচ্ছি না; ধারা ২৭(৪)-এর সর্বশেষ পাঠ bdlaws.minlaw.gov.bd-এ দেখুন।

ভালোভাবে বিদায় নিন

  • কাজ, ফাইল আর পাসওয়ার্ড গুছিয়ে বুঝিয়ে দিন, লিখিত তালিকাসহ।
  • সহকর্মী আর ব্যবস্থাপকের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখুন; ভবিষ্যতে রেফারেন্স লাগবে।
  • অভিজ্ঞতা সনদ আর রিলিজ লেটার হাতে নিয়ে তবেই শেষ দিন পার করুন।

চাকরি ছাড়ার আগে ঠিক করুন সময়টা সঠিক কি না; চাকরি বদলানোর সঠিক সময় লেখাটা কাজে লাগবে। আর যে প্রতিষ্ঠান ছাড়ছেন, সেখানকার অভিজ্ঞতা পরের কর্মীদের জন্য রেখে যান, রিভিউ লিখে। আপনার পরিচয় কখনো প্রকাশ হয় না।

এই লেখা সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়।

Frequently asked questions

চাকরি ছাড়তে কত দিন আগে নোটিশ দিতে হয়?

শ্রম আইনের ধারা ২৭ অনুযায়ী স্থায়ী শ্রমিককে ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হয়। অস্থায়ী মাসিক মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমিককে ৩০ দিন, অন্য অস্থায়ী শ্রমিককে ১৪ দিন।

নোটিশ না দিয়ে চাকরি ছাড়লে কী হয়?

আইন অনুযায়ী নোটিশের সময়ের সমান মজুরি মালিককে দিয়ে নোটিশ ছাড়াই ইস্তফা দেওয়া যায়। সাধারণত চূড়ান্ত পাওনা থেকে সেটা সমন্বয় করা হয়।

ইস্তফা দিলে কি অর্জিত ছুটির টাকা পাব?

হ্যাঁ, চাকরি শেষে না নেওয়া অর্জিত ছুটির বদলে মজুরি পাওনা হয়। চূড়ান্ত হিসাবে এটা আছে কি না মিলিয়ে নিন।

Check before you join

See what employees say about the employer you are applying to — or write about your own workplace to help someone else.

Keep reading