Chakri Kemon
All articles

Your rights3 min read

ছুটির নিয়ম: নৈমিত্তিক, অসুস্থতা, অর্জিত আর উৎসব ছুটি কত দিন পাবেন

শ্রম আইন অনুযায়ী বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১৪ দিন অসুস্থতার ছুটি, ১৮ দিন কাজে এক দিন অর্জিত ছুটি আর ১৩ দিন উৎসব ছুটি। কোনটা জমা থাকে, কোনটা থাকে না, সহজ ভাষায়।

বছরের ক্যালেন্ডারে বিভিন্ন রঙে নৈমিত্তিক, অসুস্থতা, অর্জিত আর উৎসব ছুটি চিহ্নিত

"ছুটি চাইলে বস রাগ করেন", "অসুস্থ ছিলাম, তবু বেতন কাটল", "পাঁচ বছরে একদিনও বাৎসরিক ছুটি নিইনি, সেটার কী হবে?" এই প্রশ্নগুলো চাকরিজীবীদের কাছে খুব পরিচিত। শ্রম আইনের নবম অধ্যায়ে ছুটির স্পষ্ট নিয়ম আছে। এক নজরে:

  • নৈমিত্তিক ছুটি: বছরে ১০ দিন, পূর্ণ মজুরিতে (ধারা ১১৫)
  • অসুস্থতার ছুটি: বছরে ১৪ দিন, পূর্ণ মজুরিতে (ধারা ১১৬)
  • অর্জিত বা বাৎসরিক ছুটি: প্রতি ১৮ দিন কাজে এক দিন (ধারা ১১৭)
  • উৎসব ছুটি: বছরে ১৩ দিন, মজুরিসহ (ধারা ১১৮)
  • মাতৃত্বকালীন ছুটি: ১২০ দিন (ধারা ৪৬)

নৈমিত্তিক ছুটি: বছরে ১০ দিন

ধারা ১১৫ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বছরে পূর্ণ মজুরিতে দশ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার অধিকারী। হঠাৎ দরকার, পারিবারিক কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে এটা নেওয়া হয়।

এই ছুটি জমা থাকে না। এক বছরে না নিলে পরের বছর আর নেওয়া যায় না। তাই বছর শেষ হওয়ার আগে দরকার মতো ব্যবহার করুন। চা-বাগানের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।

অসুস্থতার ছুটি: বছরে ১৪ দিন

ধারা ১১৬ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বছরে পূর্ণ মজুরিতে চৌদ্দ দিনের অসুস্থতার ছুটি পান। এর জন্য রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সনদ লাগে, যে সনদে বলা থাকে আপনি অসুস্থ এবং কত দিন ছুটি দরকার।

এই ছুটিও জমা থাকে না। সংবাদপত্র শ্রমিকদের জন্য নিয়ম আলাদা: তাঁরা অর্ধ-মজুরিতে অসুস্থতার ছুটি পান, চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে।

অর্জিত বা বাৎসরিক ছুটি: ১৮ দিন কাজে এক দিন

ধারা ১১৭ অনুযায়ী এক বছর চাকরি পূর্ণ হলে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক দোকান, বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা আর সড়ক পরিবহনে প্রতি আঠারো দিন কাজের জন্য এক দিন মজুরিসহ বাৎসরিক ছুটি পান।

  • চা-বাগানে: প্রতি বাইশ দিন কাজে এক দিন
  • সংবাদপত্র শ্রমিক: প্রতি এগারো দিন কাজে এক দিন

এটাই একমাত্র ছুটি যা সাধারণত জমা থাকে। আর চাকরি শেষে না নেওয়া অর্জিত ছুটির বদলে মজুরি পাওনা হয়। বছরে কত দিন কাজ করলে কত দিন ছুটি হয়, সঙ্গে সঙ্গে দেখতে ব্যবহার করুন অর্জিত ছুটির ক্যালকুলেটর। উদাহরণ: বছরে ২৭০ দিন কাজ করলে ২৭০ ÷ ১৮ = ১৫ দিন।

উৎসব ছুটি: এখন ১৩ দিন

ধারা ১১৮ সংশোধিত হয়েছে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০২৬ দিয়ে। এখন প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বছরে ১৩ দিনের মজুরিসহ উৎসব ছুটি পান, আগে ছিল ১১ দিন। কোন দিনগুলো উৎসব ছুটি হবে, তা সাধারণত প্রতিষ্ঠান ঠিক করে।

উৎসব ছুটির দিনে কাজ করালে বদলি ছুটি আর অতিরিক্ত ভাতা পাওনা হয়। উৎসব বোনাসের নিয়ম আলাদা, পড়ুন উৎসব বোনাস কি বাধ্যতামূলক।

মাতৃত্বকালীন ছুটি

২০২৬ সালের সংশোধনে মাতৃত্বকালীন সুবিধা ১২০ দিন হয়েছে, প্রসবের আগে ৬০ আর পরে ৬০ দিন। বিস্তারিত পড়ুন মাতৃত্বকালীন ছুটির লেখায়।

ছুটি নেওয়ার সময় যা করবেন

  • যতটা সম্ভব আগে, লিখিতভাবে বা ইমেইলে আবেদন করুন।
  • অনুমোদনের উত্তর সংরক্ষণ করুন।
  • অসুস্থতার ছুটিতে চিকিৎসকের সনদ জমা দিন আর একটা কপি নিজের কাছে রাখুন।
  • বছর শেষে ছুটির হিসাব চেয়ে নিন: কোন ছুটি কত দিন নেওয়া হয়েছে, অর্জিত ছুটি কত জমা।

প্রতিশ্রুত ছুটি কি সত্যিই নেওয়া যায়

কাগজে ছুটি থাকলেও অনেক কর্মস্থলে বাস্তবে সেটা নেওয়া কঠিন। চাকরি নেওয়ার আগে এটা জানার একটা উপায় হলো চাকরি কেমন-এ সেই প্রতিষ্ঠানের পেজ দেখা: সেখানে কর্মীরা জানান প্রতিশ্রুত ছুটি নেওয়া যায় কি না। আপনিও আপনার কর্মস্থল নিয়ে ৩০ সেকেন্ডে রেটিং দিন।

এই লেখা সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের নীতিতে আইনের চেয়ে বেশি ছুটি থাকলে সেটাই প্রযোজ্য।

Frequently asked questions

শ্রম আইনে বছরে মোট কত দিন ছুটি?

নৈমিত্তিক ১০ দিন, অসুস্থতা ১৪ দিন, উৎসব ১৩ দিন, আর অর্জিত ছুটি প্রতি ১৮ দিন কাজে এক দিন (বছরে প্রায় ১৫-১৭ দিন)। সাপ্তাহিক ছুটি আলাদা।

নৈমিত্তিক ছুটি কি জমা থাকে?

না। ধারা ১১৫ অনুযায়ী নৈমিত্তিক ছুটি জমা থাকে না, এক বছরে না নিলে পরের বছর নেওয়া যায় না। অসুস্থতার ছুটিও জমা থাকে না।

না নেওয়া অর্জিত ছুটির টাকা কি পাব?

অর্জিত ছুটি জমা থাকে, আর চাকরি শেষে না নেওয়া অর্জিত ছুটির বদলে মজুরি পাওনা হয়। চাকরি ছাড়ার সময় চূড়ান্ত হিসাবে এটা আছে কি না দেখে নিন।

উৎসব ছুটি কত দিন?

২০২৬ সালের সংশোধনের পর বছরে ১৩ দিন, মজুরিসহ। আগে ছিল ১১ দিন।

Check before you join

See what employees say about the employer you are applying to — or write about your own workplace to help someone else.

Keep reading