Chakri Kemon
All articles

Your rights3 min read

ওভারটাইমের নিয়ম: শ্রম আইন অনুযায়ী কত টাকা পাওনা, কীভাবে হিসাব করবেন

শ্রম আইনের ধারা ১০৮ অনুযায়ী ওভারটাইম দিতে হয় সাধারণ হারের দ্বিগুণে। ঘণ্টাপ্রতি মজুরি কীভাবে বের করবেন, উদাহরণ, কাদের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা আর টাকা না দিলে কী করবেন।

ঘড়ির পাশে টাকার কয়েন আর দ্বিগুণ চিহ্ন, ওভারটাইম ভাতার হিসাব বোঝাতে

অফিস ছুটির পর আরও দুই ঘণ্টা, শুক্রবারেও আধাবেলা। অনেক কর্মস্থলে এটা রোজকার ব্যাপার, কিন্তু এর জন্য আলাদা টাকা আসে কি না, আর কত আসা উচিত, অনেকেই জানেন না। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম দিয়েছে।

আইন কী বলে: ধারা ১০৮

শ্রম আইনের ধারা ১০৮(১) অনুযায়ী কোনো শ্রমিক কোনো দিন বা সপ্তাহে আইনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে, অতিরিক্ত সময়ের জন্য তিনি মূল মজুরি, মহার্ঘ ভাতা আর এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (থাকলে) মিলিয়ে সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা পাবেন।

খেয়াল করুন, হিসাবের ভিত্তি মূল মজুরি আর মহার্ঘ ভাতা, মোট বেতন নয়। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা বা যাতায়াত ভাতা ওভারটাইমের হিসাবে ঢোকে না।

ঘণ্টাপ্রতি মজুরি কীভাবে বের করবেন

আইন নিজে কোনো নির্দিষ্ট ভাজক বলে দেয়নি। পোশাক খাতের মজুরি প্রজ্ঞাপনে আর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে যে হিসাব চলে, তা হলো মাসে ২৬ কর্মদিবস × ৮ ঘণ্টা = ২০৮ ঘণ্টা।

  • ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ মজুরি = (মাসিক মূল মজুরি + মহার্ঘ ভাতা) ÷ ২০৮
  • ঘণ্টাপ্রতি ওভারটাইম হার = ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ মজুরি × ২
  • মাসের ওভারটাইম ভাতা = ওভারটাইম হার × মোট ওভারটাইম ঘণ্টা

একটা উদাহরণ

মাসিক মূল মজুরি ১০,৪০০ টাকা, মহার্ঘ ভাতা নেই, মাসে ওভারটাইম ৩০ ঘণ্টা।

  • ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ মজুরি: ১০,৪০০ ÷ ২০৮ = ৫০ টাকা
  • ওভারটাইম হার: ৫০ × ২ = ১০০ টাকা
  • মাসের ওভারটাইম: ১০০ × ৩০ = ৩,০০০ টাকা

নিজের অঙ্ক বসিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দেখতে ব্যবহার করুন ওভারটাইম ক্যালকুলেটর।

কাদের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা

  • পিস রেটে মজুরি পান যাঁরা: ধারা ১০৮(২) অনুযায়ী উপরের দ্বিগুণ হারের বিধান তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
  • শ্রম আইনের আওতার বাইরে যাঁরা: আইনে "শ্রমিক" সংজ্ঞার বাইরে থাকা পদ, যেমন মূলত ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক দায়িত্বের কর্মকর্তা, তাঁদের ওভারটাইম চুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুযায়ী চলে। নিয়োগপত্রে কী লেখা আছে দেখুন।
  • সরকারি চাকরি: সরকারি কর্মচারীদের জন্য আলাদা বিধি প্রযোজ্য।

ওভারটাইমের রেকর্ড রাখুন

ধারা ১০৮(৩) অনুযায়ী সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য ওভারটাইমের রেজিস্টার নির্ধারণ করতে পারে। নিজের জন্যও একটা সহজ রেকর্ড রাখুন: তারিখ, কখন কাজ শেষ হলো, কে কাজ করতে বলেছিলেন। ফোনের নোট বা একটা খাতাই যথেষ্ট। পরে হিসাব না মিললে এটাই আপনার প্রমাণ।

অতিরিক্ত কাজকে "কাজের অংশ" বলা হলে

অনেক অফিসে অলিখিত নিয়ম থাকে: দেরি করে থাকা মানেই নিষ্ঠা, টাকা চাওয়া মানে অকৃতজ্ঞতা। শ্রম আইনের আওতায় থাকা কর্মীর জন্য সেটা আইনের সঙ্গে মেলে না। প্রথমে ভদ্রভাবে লিখিতভাবে জানতে চান ওভারটাইম কীভাবে হিসাব হয়। নিয়োগপত্রে এ বিষয়ে কী লেখা আছে, সেটাও দেখুন; নিয়োগপত্র কেন জরুরি লেখায় বিস্তারিত আছে।

টাকা না দিলে কোথায় যাবেন

প্রথমে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বা হিসাব বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিন। সমাধান না হলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৬৩৫৭-এ ফোন করতে পারেন। পুরো পথ ধাপে ধাপে আছে বেতন না দিলে কোথায় অভিযোগ করবেন লেখায়।

অন্যদের জানান

কোন প্রতিষ্ঠানে ওভারটাইমের টাকা ঠিকমতো দেওয়া হয়, তা চাকরি খোঁজার সময় জানা খুব কাজের। চাকরি কেমন-এ প্রতিটি রিভিউতে "ওভারটাইমের টাকা দেয় কি না" প্রশ্নটা আছে, আর উত্তরগুলো শতাংশ হিসেবে দেখানো হয়, কারও নাম নয়। আপনার কর্মস্থল নিয়ে ৩০ সেকেন্ডে রেটিং দিন।

এই লেখা সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। আপনার চুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নীতিতে আইনের চেয়ে বেশি সুবিধা থাকলে সেটাই প্রযোজ্য।

Frequently asked questions

ওভারটাইমের রেট কত?

শ্রম আইনের ধারা ১০৮ অনুযায়ী মূল মজুরি আর মহার্ঘ ভাতা (থাকলে অন্তর্বর্তী মজুরিসহ) মিলিয়ে সাধারণ হারের দ্বিগুণ।

ওভারটাইমের ঘণ্টাপ্রতি হার কীভাবে বের করব?

প্রচলিত হিসাবে মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতার যোগফলকে ২০৮ দিয়ে ভাগ করে ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ মজুরি পাওয়া যায়, তারপর তাকে ২ দিয়ে গুণ করলে ওভারটাইম হার।

ওভারটাইম কি মোট বেতনের ওপর হিসাব হয়?

না। আইনে হিসাবের ভিত্তি মূল মজুরি, মহার্ঘ ভাতা আর অন্তর্বর্তী মজুরি। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা বা যাতায়াত ভাতা এতে ধরা হয় না।

পিস রেটে কাজ করলে কি ওভারটাইম পাব?

ধারা ১০৮(২) অনুযায়ী পিস রেটে মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হারের বিধান প্রযোজ্য নয়। তাঁদের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ম বা চুক্তি দেখুন।

Check before you join

See what employees say about the employer you are applying to — or write about your own workplace to help someone else.

Keep reading