Your rights3 min read
চাকরি থেকে ছাঁটাই বা বরখাস্ত: কর্মীর অধিকার কী, কী করবেন
ছাঁটাই, অব্যাহতি, বরখাস্ত আর অবসান শ্রম আইনে আলাদা জিনিস, অধিকারও আলাদা। নোটিশ, কারণ দর্শানোর সুযোগ, কাগজপত্র আর পাওনা নিয়ে কর্মীর জানা দরকার এমন সব কথা।

হঠাৎ একদিন ডেকে বলা হলো, "কাল থেকে আর আসার দরকার নেই।" এমন মুহূর্তে মাথা কাজ করে না, আর ভুল সিদ্ধান্তে অনেক পাওনা হারিয়ে যায়। শ্রম আইন চাকরি শেষ হওয়ার কয়েকটা আলাদা পথ রেখেছে, প্রতিটির নিয়ম আলাদা। আগে বুঝে নিন আপনার ক্ষেত্রে কোনটা ঘটছে।
চাকরি শেষ হওয়ার চারটি প্রধান পথ
- ছাঁটাই (retrenchment): কাজ কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত কর্মীর কারণে চাকরি শেষ করা। কর্মীর দোষ নয়।
- অব্যাহতি (discharge): শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বা অসুস্থতার কারণে।
- বরখাস্ত (dismissal): অসদাচরণ বা কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডের কারণে, তদন্তের পর।
- নোটিশ দিয়ে অবসান (termination): মালিক কোনো কারণ না দেখিয়ে নোটিশ দিয়ে স্থায়ী শ্রমিকের চাকরি শেষ করা, আইনে নির্দিষ্ট নোটিশ বা নোটিশের বদলে মজুরি আর ক্ষতিপূরণ দিয়ে।
আপনাকে যে চিঠি দেওয়া হচ্ছে, তাতে কোন পথ লেখা, সেটা খেয়াল করুন। পাওনা নির্ভর করে এর ওপর।
নোটিশের অধিকার
মালিক নোটিশ দিয়ে স্থায়ী শ্রমিকের চাকরি অবসান করলে, মাসিক মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমিককে ১২০ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হয়, অথবা নোটিশের বদলে সেই সময়ের মজুরি। অন্য শ্রমিকদের জন্য সময় আলাদা। ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও নোটিশ বা নোটিশের বদলে মজুরির বিধান আছে।
শুধু মুখে "কাল থেকে আসবেন না" বলা আইনের পদ্ধতি নয়। লিখিত চিঠি চেয়ে নিন।
বরখাস্তের আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ
অসদাচরণের অভিযোগে বরখাস্ত করতে হলে আইনে একটা প্রক্রিয়া মানতে হয়: লিখিত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর জন্য যুক্তিসংগত সময়, নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আর তদন্ত। অভিযোগের চিঠি পেলে:
- চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করুন, কিন্তু না পড়ে কিছুতে সই করবেন না।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দিন, শান্ত ভাষায়, তথ্যসহ।
- তদন্তে উপস্থিত থাকুন, সাক্ষী বা কাগজ থাকলে দেখান।
- সব চিঠি আর আপনার জবাবের কপি রাখুন।
চাকরি শেষে যা পাওনা হতে পারে
কোন পথে চাকরি শেষ হলো তার ওপর নির্ভর করে পাওনা আলাদা। সাধারণত চূড়ান্ত হিসাবে এগুলো দেখে নিন:
- শেষ মাসের কাজ করা দিনের মজুরি
- নোটিশের বদলে মজুরি, যদি নোটিশ না দেওয়া হয়
- না নেওয়া অর্জিত ছুটির মজুরি; হিসাব দেখুন অর্জিত ছুটির ক্যালকুলেটরে
- প্রভিডেন্ট ফান্ডে আপনার আর প্রতিষ্ঠানের অংশ, ফান্ডের নিয়ম অনুযায়ী
- আইনে নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ বা গ্র্যাচুইটি, যেখানে প্রযোজ্য
- বকেয়া ওভারটাইম
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০২৬-এ কয়েক জায়গায় বদলেছে, আর বিভিন্ন সারসংক্ষেপে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই এখানে অঙ্ক দিচ্ছি না; আপনার ক্ষেত্রে সর্বশেষ ধারা bdlaws.minlaw.gov.bd-এ দেখুন বা একজন শ্রম আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
যে ভুলগুলো করবেন না
- চাপের মুখে "স্বেচ্ছায় ইস্তফা" লেখা কাগজে সই করবেন না। ইস্তফা আর ছাঁটাইয়ের পাওনা আলাদা। ইস্তফার নিয়ম পড়ুন ইস্তফাপত্র ও নোটিশ পিরিয়ড লেখায়।
- "পূর্ণ ও চূড়ান্ত পাওনা বুঝে পেলাম" লেখা কাগজে সই করার আগে হিসাব মিলিয়ে নিন।
- অফিসের ইমেইলে থাকা নিজের দরকারি কাগজ (নিয়োগপত্র, বেতনের স্লিপ, প্রশংসাপত্র) আগে থেকেই নিজের কাছে রাখুন।
অভিযোগের পথ
শ্রম আইনের ধারা ৩৩-এ ছাঁটাই, অব্যাহতি, বরখাস্ত বা অবসান নিয়ে লিখিত অভিযোগের প্রক্রিয়া আছে, প্রথমে মালিকের কাছে, তারপর শ্রম আদালতে। প্রক্রিয়ায় সময়সীমা আছে, তাই দেরি করবেন না। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৬৩৫৭-এ ছাঁটাই, অবৈধ বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুতির অভিযোগও জানানো যায়। পুরো পথ দেখুন বেতন না দিলে কোথায় অভিযোগ করবেন লেখায়।
অন্যদের সতর্ক করুন, আইন মেনে
কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা কেমন, সেটা পরের কর্মীর জানা জরুরি। চাকরি কেমন-এ রিভিউ লিখতে পারেন, কিন্তু কোনো ব্যক্তির নাম ছাড়া, নিজের অভিজ্ঞতা আর মতামত হিসেবে। প্রতিটি রিভিউ প্রকাশের আগে যাচাই হয়, আর আপনার পরিচয় কখনো প্রকাশ হয় না।
এই লেখা সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়।
Frequently asked questions
মালিক কি নোটিশ ছাড়া চাকরি থেকে বাদ দিতে পারে?
নোটিশ দিয়ে অবসানের ক্ষেত্রে মাসিক মজুরিপ্রাপ্ত স্থায়ী শ্রমিককে ১২০ দিনের লিখিত নোটিশ বা তার বদলে মজুরি দিতে হয়। অসদাচরণের জন্য বরখাস্তে নোটিশের বদলে তদন্তের প্রক্রিয়া মানতে হয়।
ছাঁটাই আর বরখাস্তের পার্থক্য কী?
ছাঁটাই হয় কাজ কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত কর্মীর কারণে, কর্মীর দোষে নয়। বরখাস্ত হয় অসদাচরণ বা অপরাধে দণ্ডের কারণে, তদন্তের পর। দুই ক্ষেত্রে পাওনা আলাদা।
চাকরি হারালে কোথায় অভিযোগ করব?
প্রথমে মালিকের কাছে লিখিত অভিযোগ (ধারা ৩৩), সমাধান না হলে শ্রম আদালত। পরামর্শের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৬৩৫৭।
Check before you join
See what employees say about the employer you are applying to — or write about your own workplace to help someone else.
Keep reading

Your rights3 min read
ওভারটাইমের নিয়ম: শ্রম আইন অনুযায়ী কত টাকা পাওনা, কীভাবে হিসাব করবেন
শ্রম আইনের ধারা ১০৮ অনুযায়ী ওভারটাইম দিতে হয় সাধারণ হারের দ্বিগুণে। ঘণ্টাপ্রতি মজুরি কীভাবে বের করবেন, উদাহরণ, কাদের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা আর টাকা না দিলে কী করবেন।

Your rights3 min read
মাতৃত্বকালীন ছুটি এখন ১২০ দিন: নতুন নিয়ম, কারা পাবেন, কীভাবে নেবেন
২০২৬ সালের শ্রম আইন সংশোধনে মাতৃত্বকালীন সুবিধা ১১২ দিন থেকে বেড়ে ১২০ দিন হয়েছে: সন্তান জন্মের আগে ৬০ দিন, পরে ৬০ দিন, মজুরিসহ। কী জানা দরকার আর কীভাবে আবেদন করবেন।

Your rights3 min read
ছুটির নিয়ম: নৈমিত্তিক, অসুস্থতা, অর্জিত আর উৎসব ছুটি কত দিন পাবেন
শ্রম আইন অনুযায়ী বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১৪ দিন অসুস্থতার ছুটি, ১৮ দিন কাজে এক দিন অর্জিত ছুটি আর ১৩ দিন উৎসব ছুটি। কোনটা জমা থাকে, কোনটা থাকে না, সহজ ভাষায়।

Your rights3 min read
উৎসব বোনাস কি বাধ্যতামূলক? ঈদ বোনাস নিয়ে আইন কী বলে
শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অনুযায়ী এক বছর চাকরি পূর্ণ হলে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাওনা, প্রতিটি মূল মজুরির বেশি নয়। কারা পাবেন, কত পাবেন আর সময়মতো না দিলে কী করবেন।