Chakri Kemon
All articles

Your rights3 min read

বেতন না দিলে বা দেরিতে দিলে কোথায় অভিযোগ করবেন: ধাপে ধাপে

বেতন আটকে গেলে প্রথমে কী করবেন, কোন কাগজ গুছিয়ে রাখবেন, ১৬৩৫৭ হেল্পলাইন, শ্রম আদালত আর অন্য পথগুলো। চাকরিজীবীদের জন্য সহজ গাইড।

মোবাইল ফোনের পর্দায় ১৬৩৫৭ হেল্পলাইন, পাশে অভিযোগের ফাইল আর ধাপে ধাপে পথের চিহ্ন

দুই মাসের বেতন বাকি, বললে শুধু "এই মাসেই হবে"। ভাড়া, বাজার, বাচ্চার স্কুলের বেতন থেমে থাকে না। অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে কিছু বলেন না, আবার অনেকে জানেন না কোথায় বলবেন। এই লেখায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পথ।

আগে নিজের কাগজ গুছিয়ে নিন

অভিযোগ যেখানেই করুন, প্রমাণ লাগবে। আজই এগুলো এক জায়গায় রাখুন:

  • নিয়োগপত্র; না থাকলে আইডি কার্ড, হাজিরা কার্ড বা যেকোনো কাগজ যা দেখায় আপনি সেখানে কাজ করেন। নিয়োগপত্র কেন জরুরি পড়ে নিন।
  • আগের মাসগুলোর বেতনের স্লিপ বা ব্যাংক বিবরণী, যা দেখায় সাধারণত কত বেতন আসে।
  • কবে কবে বেতন চেয়েছেন, তার ইমেইল, বার্তা বা চিঠি।
  • হাজিরার রেকর্ড বা রোস্টার, থাকলে।

ফোনে ছবি তুলে রাখুন আর কোথাও ব্যাকআপ রাখুন।

বেতন কবে দেওয়ার কথা

শ্রম আইন অনুযায়ী মজুরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে মজুরি পরিশোধ করতে হয়; সাধারণত মাস শেষে পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে। আপনার নিয়োগপত্রে বেতনের তারিখ লেখা থাকলে সেটা দেখুন।

ধাপ ১: লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানকে জানান

মুখে বলার পাশাপাশি একটা লিখিত আবেদন দিন মানবসম্পদ বিভাগ বা ব্যবস্থাপনায়। লিখুন কোন কোন মাসের বেতন বাকি, কত টাকা, আর কবে পরিশোধের অনুরোধ করছেন। ভাষা ভদ্র রাখুন। একই অবস্থায় থাকা সহকর্মীরা মিলে আবেদন করলে বেশি গুরুত্ব পায়। আবেদনের কপিতে প্রাপ্তির সই বা ইমেইলের রেকর্ড রাখুন।

ধাপ ২: ১৬৩৫৭ হেল্পলাইনে ফোন করুন

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE) শ্রমিকদের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালায়: ১৬৩৫৭। সরকারি পোর্টাল অনুযায়ী এটা ২৪ ঘণ্টা খোলা, আর এখানে বেতন, ছুটি, ছাঁটাই, অবৈধ বরখাস্তসহ শ্রম-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানানো যায় বা পরামর্শ নেওয়া যায়। অনুরোধ করলে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়।

ফোনের আগে প্রস্তুত রাখুন: প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, আপনার পদ, কত মাসের বেতন বাকি, আর কী কী প্রমাণ আছে।

ধাপ ৩: অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস

অধিদপ্তরের প্রতিটি জেলায় বা অঞ্চলে অফিস আছে। সেখানে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দেওয়া যায়। পরিদর্শকরা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ বা পরিদর্শন করতে পারেন, আর অনেক অভিযোগ এই পর্যায়েই মীমাংসা হয়।

ধাপ ৪: শ্রম আদালত

মীমাংসা না হলে মজুরি আদায়ের জন্য শ্রম আদালতে মামলা করা যায়। শ্রম আদালত আছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ কয়েকটি স্থানে, আর আপিলের জন্য শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। মামলায় সময়সীমা আছে, তাই দেরি না করে একজন শ্রম আইনজীবী বা শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা কোনো সংগঠনের সাহায্য নিন। কিছু সংগঠন বিনা খরচে আইনি সহায়তা দেয়, আর সরকারি আইনগত সহায়তা সংস্থার জাতীয় হেল্পলাইনও আছে।

চাকরি হারানো বা ছাঁটাই হলে

চাকরি হারানোর সঙ্গে বেতন বাকি থাকলে শ্রম আইনের ধারা ৩৩-এর অভিযোগ প্রক্রিয়া প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যার সময়সীমা আছে। বিস্তারিত পড়ুন ছাঁটাই বা বরখাস্ত: কর্মীর অধিকার।

অভিযোগ করলে কি চাকরি যাবে

আইনসম্মত অভিযোগ করার জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া আইনের পরিপন্থী। তবু ভয় স্বাভাবিক। তাই হেল্পলাইনে পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করতে পারেন, আর সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে এগোলে ঝুঁকি কমে। সব যোগাযোগ লিখিত রাখুন।

সামাজিক মাধ্যমে লেখার আগে ভাবুন

রাগে ফেসবুকে প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে অভিযোগ লিখলে মানহানির ঝুঁকি থাকে, আর আপনার আসল দাবি পিছিয়ে যেতে পারে। অভিজ্ঞতা জানাতে চাইলে চাকরি কেমন-এ রিভিউ লিখুন: কোনো ব্যক্তির নাম ছাড়া, মতামত হিসেবে, আর আপনার পরিচয় গোপন থাকে। "বেতন সময়মতো আসে কি না" প্রশ্নের উত্তর পরের চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে কাজে লাগে; ৩০ সেকেন্ডে রেটিং দিয়েও জানাতে পারেন।

এই লেখা সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়।

Frequently asked questions

বেতন না দিলে কোন নম্বরে ফোন করব?

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৬৩৫৭। সরকারি পোর্টাল অনুযায়ী এটা ২৪ ঘণ্টা খোলা, আর অনুরোধ করলে পরিচয় গোপন রাখা হয়।

অভিযোগের জন্য কী কী প্রমাণ লাগে?

নিয়োগপত্র বা চাকরির প্রমাণ, আগের বেতনের স্লিপ বা ব্যাংক বিবরণী, আর বেতন চাওয়ার লিখিত রেকর্ড। হাজিরার রেকর্ড থাকলে আরও ভালো।

মামলা করতে কি অনেক খরচ?

কিছু শ্রমিক অধিকার সংগঠন আর সরকারি আইনগত সহায়তা সংস্থা বিনা খরচে বা কম খরচে সাহায্য করে। আগে হেল্পলাইন আর অধিদপ্তরের মীমাংসার পথ চেষ্টা করুন।

Check before you join

See what employees say about the employer you are applying to — or write about your own workplace to help someone else.

Keep reading