চাকরি কেমন
সব লেখা

কর্মীর অধিকার৩ মিনিটে পড়ুন

কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটির নিয়ম: দিনে কত ঘণ্টা কাজ আইনসম্মত

শ্রম আইনে দিনে ও সপ্তাহে সর্বোচ্চ কত ঘণ্টা কাজ, বিরতির নিয়ম, সাপ্তাহিক ছুটি কয় দিন, ছুটির দিনে কাজ করালে কী পাওনা, আর অফিস কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য।

দেয়ালঘড়িতে আট ঘণ্টা চিহ্নিত, পাশে সপ্তাহের ক্যালেন্ডারে ছুটির দিন

"সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা অফিস, তারপর বাসায় গিয়েও ফোনে কাজ।" বাংলাদেশে অনেক কর্মীর জন্য এটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিন্তু শ্রম আইন কর্মঘণ্টার স্পষ্ট সীমা দিয়েছে, আর সেই সীমার বাইরে কাজ করালে বাড়তি মজুরি পাওনা হয়। নিয়মগুলো জানা থাকলে নিজের পাওনা বোঝা সহজ হয়, আর নতুন চাকরি বাছাইয়ের সময়ও কাজে লাগে।

এই লেখা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, যা আইনের সংজ্ঞায় "শ্রমিক" এমন কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য।

দৈনিক কর্মঘণ্টা (ধারা ১০০)

একজন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সাধারণত দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যায় না। অতিরিক্ত সময়ের (ওভারটাইম) মজুরি দিয়ে দিনে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো যায়, নির্দিষ্ট শর্তে।

বিরতি (ধারা ১০১)

একটানা কাজের মাঝে বিশ্রাম আর খাবারের বিরতি দিতে হয়। আইন অনুযায়ী দিনে ছয় ঘণ্টার বেশি কাজ হলে এক ঘণ্টার বিরতি, অথবা পাঁচ ঘণ্টার বেশি হলে আধা ঘণ্টার বিরতি দেওয়ার বিধান আছে। বিরতির সময় সাধারণত কর্মঘণ্টার মধ্যে ধরা হয় না।

সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা (ধারা ১০২)

সপ্তাহে সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যায় না। ওভারটাইমসহ সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে, তবে বছরে গড়ে সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টার বেশি নয়।

সাপ্তাহিক ছুটি (ধারা ১০৩)

  • কারখানা আর শিল্প প্রতিষ্ঠানে: সপ্তাহে এক দিন।
  • দোকান আর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে: সপ্তাহে দেড় দিন।

সাপ্তাহিক ছুটির জন্য মজুরি কাটা যায় না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করালে বদলি ছুটি দেওয়ার বিধান আছে।

ওভারটাইমের মজুরি

নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বেশি কাজ করালে সেই বাড়তি সময়ের জন্য সাধারণ হারের দ্বিগুণ মজুরি পাওনা। হিসাব হয় মূল মজুরি আর মহার্ঘ ভাতা (থাকলে) দিয়ে। পুরো হিসাবের পদ্ধতি উদাহরণসহ পাবেন ওভারটাইমের নিয়ম ও হিসাব লেখায়, আর নিজের পাওনা হিসাব করুন ওভারটাইম ক্যালকুলেটরে।

উৎসব ছুটি আর অন্যান্য ছুটি

সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে নৈমিত্তিক, অসুস্থতা, অর্জিত আর উৎসব ছুটি আলাদা। উৎসব ছুটির দিনে কাজ করালে বদলি ছুটি আর অতিরিক্ত ভাতা পাওনা হয়। সব ছুটির হিসাব: কোন ছুটি কত দিন।

নারী শ্রমিকের রাতের কাজ

নারী শ্রমিককে রাত দশটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত সময়ে তার সম্মতি ছাড়া কাজ করানো যায় না (ধারা ১০৯)। বিস্তারিত: নারী কর্মীর রাতের শিফটের নিয়ম।

অফিস কর্মকর্তাদের কী হবে

ব্যাংক, করপোরেট বা আইটি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকায় আইনের সংজ্ঞায় শ্রমিক না-ও হতে পারেন; তখন কর্মঘণ্টা আর ওভারটাইম নির্ভর করে নিয়োগপত্র আর প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর। তাই:

  • নিয়োগপত্রে অফিস সময় আর সাপ্তাহিক ছুটি লেখা আছে কি না দেখুন।
  • অফিস সময়ের পরে নিয়মিত কাজ করতে হলে তার বিনিময়ে ভাতা বা বদলি ছুটির নীতি আছে কি না জানুন।
  • ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করুন: "সাধারণত অফিস কয়টা পর্যন্ত চলে?" উত্তর অনেক কিছু বলে।

নিজের হিসাব রাখুন

কর্মঘণ্টা আর ওভারটাইম নিয়ে বিরোধে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো রেকর্ড:

  • প্রতিদিন কখন ঢুকলেন আর বের হলেন, ফোনের নোটে বা একটা খাতায়।
  • হাজিরা মেশিনের রেকর্ড দেখার সুযোগ থাকলে মাঝে মাঝে মিলিয়ে নিন।
  • বেতনের স্লিপে ওভারটাইমের ঘণ্টা আর টাকা আলাদা লাইনে আছে কি না।
  • ছুটির দিনে কাজের নির্দেশ ইমেইল বা মেসেজে এলে সংরক্ষণ করুন।

অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানো

আইনি অধিকার জানার পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্য আর জীবনের ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। কাজের চাপ সামলানোর বাস্তব উপায় পড়ুন কাজের চাপ সামলানো লেখায়। নিয়মিত পাওনা না পেলে অভিযোগের পথ জানুন বেতন না দিলে কোথায় যাবেন থেকে।

কোথায় কাজের সময় ন্যায্য?

চাকরি কেমন-এ কর্মীরা জানান তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ আর জীবনের ভারসাম্য কেমন, ওভারটাইমের টাকা দেওয়া হয় কি না। রিভিউর "কর্ম-জীবন ভারসাম্য" রেটিং দেখে প্রতিষ্ঠান বাছাই করুন, আর আপনার অভিজ্ঞতা জানান।

সাধারণ প্রশ্ন

শ্রম আইনে দিনে সর্বোচ্চ কত ঘণ্টা কাজ করানো যায়?

সাধারণত আট ঘণ্টা (ধারা ১০০)। ওভারটাইমের মজুরি দিয়ে দিনে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত করানো যায়। সপ্তাহে সাধারণত ৪৮ ঘণ্টা, ওভারটাইমসহ ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত (ধারা ১০২)।

সাপ্তাহিক ছুটি কয় দিন পাওনা?

কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে এক দিন, দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দেড় দিন (ধারা ১০৩)। এর জন্য মজুরি কাটা যায় না।

অফিসের কর্মকর্তারা কি ওভারটাইম পান?

আইনের সংজ্ঞায় শ্রমিক হলে পান। ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক পদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র আর প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা প্রযোজ্য।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন