চাকরি কেমন
সব লেখা

কর্মীর অধিকার৩ মিনিটে পড়ুন

নারী কর্মীর রাতের শিফট: আইনের নিয়ম, সম্মতি আর নিরাপত্তা

শ্রম আইনে নারী শ্রমিককে রাতে কাজ করানোর নিয়ম, সম্মতির গুরুত্ব, যাতায়াত ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা, আর রাতের শিফটের চাকরি নেওয়ার আগে যা জিজ্ঞেস করবেন।

রাতের শহরে অফিসের গাড়ি থেকে নামছেন একজন নারী কর্মী, আকাশে চাঁদ

কল সেন্টার, হাসপাতাল, পোশাক কারখানা, সুপারশপ আর আইটি প্রতিষ্ঠানে রাতের শিফট এখন স্বাভাবিক, আর এসব খাতে নারী কর্মীর সংখ্যাও অনেক। রাতে কাজ মানে বাড়তি ঝুঁকি: যাতায়াত, নিরাপত্তা আর স্বাস্থ্য। শ্রম আইন নারী শ্রমিকের রাতের কাজ নিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দিয়েছে, যা অনেকেই জানেন না।

এই লেখা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, আইনের সংজ্ঞায় "শ্রমিক" এমন কর্মীদের জন্য।

আইন কী বলে (ধারা ১০৯)

ধারা ১০৯ অনুযায়ী কোনো নারী শ্রমিককে তার সম্মতি ছাড়া রাত দশটা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে দেওয়া যাবে না।

এর মানে:

  • রাতের শিফট নারী কর্মীর ওপর জোর করে চাপানো যায় না।
  • রাতে কাজের জন্য সম্মতি লাগে। সম্মতি লিখিত হলে দুই পক্ষের জন্যই পরিষ্কার থাকে।
  • সম্মতি না দেওয়ায় শাস্তি দেওয়া, হুমকি বা চাকরিচ্যুতির চাপ আইনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

সম্মতি দেওয়ার আগে যা জেনে নেবেন

রাতের শিফটে আয় বেশি হতে পারে, পড়াশোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় মিলিয়ে সুবিধাজনকও হতে পারে। সম্মতি দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন:

  • যাতায়াত: প্রতিষ্ঠান কি গাড়ি দেয়? বাসার কাছ পর্যন্ত, নাকি নির্দিষ্ট পয়েন্টে? গাড়ি না দিলে ভাতা কত?
  • কর্মস্থলের নিরাপত্তা: রাতে নিরাপত্তাকর্মী আছে কি না, ভবনে আলো, সিসিটিভি।
  • রাতে কতজন কাজ করেন: একা নাকি দলে, নারী সহকর্মী আছেন কি না।
  • বিশ্রাম আর খাবারের ব্যবস্থা।
  • রাতের ভাতা বা বাড়তি মজুরি।
  • শিফট বদলের নিয়ম: কত দিন আগে জানানো হয়, পারিবারিক প্রয়োজনে দিনের শিফটে যাওয়া যায় কি না।
  • জরুরি অবস্থায় যোগাযোগ: রাতে দায়িত্বশীল কে থাকেন।

এই তথ্যগুলো নিয়োগপত্র বা শিফট নীতিতে লেখা থাকলে ভালো।

কর্মঘণ্টা আর ওভারটাইম

রাতের শিফটেও কর্মঘণ্টার সীমা আর ওভারটাইমের দ্বিগুণ মজুরির নিয়ম প্রযোজ্য। পড়ুন কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটির নিয়ম আর হিসাব করুন ওভারটাইম ক্যালকুলেটরে।

গর্ভাবস্থা আর মাতৃত্ব

গর্ভাবস্থায় কঠিন বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কাজ, আর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কাজ থেকে সুরক্ষার বিধান শ্রম আইনে আছে। রাতের শিফট শরীরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে; গর্ভাবস্থায় দিনের শিফটে বদলির অনুরোধ লিখিতভাবে করুন, চিকিৎসকের পরামর্শসহ। মাতৃত্বকালীন ছুটির সর্বশেষ নিয়ম: মাতৃত্বকালীন ছুটি।

হয়রানি বা অনিরাপদ পরিস্থিতিতে

রাতের শিফটে হয়রানির ঝুঁকি বেশি থাকে, আর সাক্ষী কম থাকে। তাই:

  • ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখুন: তারিখ, সময়, কী ঘটেছে, কে উপস্থিত ছিলেন।
  • মেসেজ বা কলের রেকর্ড থাকলে সংরক্ষণ করুন।
  • প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দিন।

অভিযোগ কমিটি আর অভিযোগের পুরো পথ নিয়ে পড়ুন কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি: অভিযোগ কোথায় করবেন। জরুরি বিপদে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করুন।

স্বাস্থ্যের যত্ন

রাতের কাজ ঘুম, খাওয়া আর মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। দিনে অন্ধকার ঘরে নির্দিষ্ট সময় ঘুম, শিফটের আগে হালকা খাবার, আর সপ্তাহে অন্তত একদিন পূর্ণ বিশ্রাম কিছুটা সাহায্য করে। কাজের চাপ সামলানোর আরও উপায়: কাজের চাপ সামলানো।

অফিস কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে

আইনের সংজ্ঞায় শ্রমিক না হলেও প্রায় সব দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান রাতে কাজ করা নারী কর্মীদের জন্য যাতায়াত আর নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখে। নীতিমালা না থাকলে লিখিতভাবে জানতে চান; এটা অযৌক্তিক দাবি নয়।

কোন প্রতিষ্ঠানে রাতের শিফট নিরাপদ?

রাতের যাতায়াত আর নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানভেদে খুব আলাদা। চাকরি কেমন-এ নারী কর্মীরা নাম প্রকাশ না করে লেখেন রাতের শিফট কেমন, গাড়ি দেওয়া হয় কি না, অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না। কল সেন্টার আর হাসপাতালে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি খুঁজে দেখুন, আর আপনার অভিজ্ঞতা অন্য নারীদের জানাতে রিভিউ দিন। আপনার নাম বা ইমেইল কখনো দেখানো হয় না।

সাধারণ প্রশ্ন

নারী শ্রমিককে কি রাতে কাজ করতে বাধ্য করা যায়?

না। শ্রম আইনের ধারা ১০৯ অনুযায়ী নারী শ্রমিকের সম্মতি ছাড়া রাত দশটা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে কাজ করানো যায় না।

রাতের শিফটে যাতায়াতের ব্যবস্থা কি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব?

আইনে সম্মতির বিধান স্পষ্ট; যাতায়াতের ব্যবস্থা অনেক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় থাকে। রাতের শিফটে সম্মতি দেওয়ার আগে গাড়ি বা ভাতার ব্যবস্থা লিখিতভাবে জেনে নিন।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন