চাকরি কেমন
সব লেখা

কর্মীর অধিকার৪ মিনিটে পড়ুন

প্রবেশনকাল কত দিন? শিক্ষানবিশ কর্মীর অধিকার আর স্থায়ী হওয়ার নিয়ম

শ্রম আইনে প্রবেশনকাল কত দিন হতে পারে, কখন বাড়ানো যায়, প্রবেশন শেষে স্থায়ীকরণের চিঠি না দিলে কী হয়, আর প্রবেশনকালে বেতন, ছুটি ও চাকরি থেকে অব্যাহতির নিয়ম।

ক্যালেন্ডারে তিন আর ছয় মাস চিহ্নিত, পাশে স্থায়ীকরণের চিঠি

নতুন চাকরিতে যোগ দিলে প্রায় সবাইকে একটা সময় "প্রবেশনে" রাখা হয়, ইংরেজিতে probation। এ সময় নিয়োগকর্তা দেখেন আপনি কাজের উপযুক্ত কি না, আর আপনিও দেখেন প্রতিষ্ঠানটা আপনার জন্য ঠিক কি না। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশনকাল শেষ হয় না: মাসের পর মাস, কখনো বছরের পর বছর কর্মীকে "প্রবেশনারি" রেখে দেওয়া হয়, যাতে স্থায়ী কর্মীর সুবিধা দিতে না হয়। আইন এ বিষয়ে কী বলে, জানা থাকলে নিজের অবস্থান বোঝা সহজ হয়।

এই লেখা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, যা কারখানা, দোকান, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের "শ্রমিকদের" জন্য প্রযোজ্য। ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক পদের অনেক কর্মকর্তা আইনের সংজ্ঞায় শ্রমিক না-ও হতে পারেন; তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র আর প্রতিষ্ঠানের চাকরির নীতিমালা প্রধান।

আইনে শ্রমিকের শ্রেণি

শ্রম আইনের ধারা ৪ শ্রমিকদের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে, যেমন শিক্ষাধীন (অ্যাপ্রেন্টিস), বদলি, সাময়িক, অস্থায়ী, শিক্ষানবিশ (প্রবেশনার), স্থায়ী আর মৌসুমি। প্রবেশনকাল নিয়ে নিয়ম আছে এই ধারাতেই। শ্রেণিগুলোর পার্থক্য বিস্তারিত পাবেন স্থায়ী, অস্থায়ী আর চুক্তিভিত্তিক চাকরি লেখায়।

প্রবেশনকাল কত দিন

ধারা ৪ অনুযায়ী:

  • করণিক (ক্লারিক্যাল) কাজের ক্ষেত্রে প্রবেশনকাল ছয় মাস।
  • অন্যান্য শ্রমিকের ক্ষেত্রে তিন মাস।
  • দক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রবেশনকালে কাজের মান যাচাই করা না গেলে নিয়োগকর্তা আরও তিন মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।

অর্থাৎ আইনের হিসাবে প্রবেশনকাল অনির্দিষ্ট নয়। নিয়োগপত্রে এর চেয়ে লম্বা প্রবেশনকাল লেখা থাকলে, আর আপনি আইনের সংজ্ঞায় শ্রমিক হলে, বিষয়টা প্রশ্ন তোলার মতো।

প্রবেশন শেষে চিঠি না দিলে

আইনে বলা আছে, প্রবেশনকাল শেষ হওয়ার পর শ্রমিককে স্থায়ী করার চিঠি দেওয়া না হলেও, তিনি কাজে বহাল থাকলে স্থায়ী বলে গণ্য হবেন। অর্থাৎ "চিঠি দেওয়া হয়নি, তাই এখনো প্রবেশনে" যুক্তি শ্রম আইনের আওতাভুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে টেকে না। নিজের যোগদানের তারিখ আর প্রবেশনকালের হিসাব রাখুন; যোগদানপত্রের কপি এখানে খুব কাজে লাগে। যোগদানপত্র নিয়ে পড়ুন যোগদানপত্র লেখার নিয়ম।

প্রবেশনকালে আপনার অধিকার

প্রবেশনারি মানে অধিকারহীন নয়:

  • নিয়োগপত্র আর পরিচয়পত্র: ধারা ৫ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে নিয়োগপত্র আর ছবিসহ পরিচয়পত্র দিতে হয়। পড়ুন নিয়োগপত্র ছাড়া চাকরি নয়।
  • মজুরি সময়মতো: মজুরি পরিশোধের সময়সীমা সব শ্রমিকের জন্য প্রযোজ্য। পড়ুন বেতন কবে দিতে হবে।
  • কর্মঘণ্টা আর ওভারটাইম: দৈনিক কর্মঘণ্টার সীমা আর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিগুণ হারে মজুরি প্রবেশনকালেও প্রযোজ্য। পড়ুন ওভারটাইমের নিয়ম ও হিসাব।
  • সাপ্তাহিক আর অন্যান্য ছুটি: নৈমিত্তিক আর অসুস্থতার ছুটি বছরের হিসাবে প্রযোজ্য। অর্জিত ছুটির জন্য এক বছরের চাকরির শর্ত আছে। পড়ুন কোন ছুটি কত দিন।
  • নিরাপদ কর্মপরিবেশ।

প্রবেশনকালে বেতন কম রাখা

অনেক প্রতিষ্ঠান প্রবেশনকালে কম বেতন দেয় আর স্থায়ী হলে বাড়ায়। এটা নিয়োগপত্রে স্পষ্ট লেখা থাকা উচিত: প্রবেশনকালে কত, স্থায়ী হলে কত। তবে কোনো অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট শিল্পের সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির নিচে নয়, যেখানে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত আছে।

প্রবেশনকালে চাকরি থেকে অব্যাহতি

প্রবেশনকালে নিয়োগকর্তা সাধারণত সহজ শর্তে চাকরি শেষ করতে পারেন, আর শ্রমিকও সহজে ছাড়তে পারেন; স্থায়ী শ্রমিকের মতো লম্বা নোটিশের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তবে:

  • অব্যাহতির চিঠি লিখিতভাবে চান।
  • কাজ করা দিনগুলোর মজুরি আর প্রাপ্য অন্যান্য পাওনা চূড়ান্তভাবে বুঝে নিন।
  • অভিজ্ঞতা সনদ চান: অভিজ্ঞতা সনদ লেখার নিয়ম।

শৃঙ্খলাজনিত কারণে চাকরিচ্যুতি আলাদা বিষয়, তার জন্য অভিযোগ, কারণ দর্শানো আর তদন্তের প্রক্রিয়া আছে। পড়ুন ছাঁটাই বা বরখাস্ত: আপনার অধিকার।

স্থায়ীকরণ চাইবেন যেভাবে

প্রবেশনকাল শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগে বা পরে, এইচআরকে একটা ছোট আবেদন:

"আমি [তারিখ] তারিখে [পদবি] পদে যোগদান করেছি। নিয়োগপত্র অনুযায়ী আমার প্রবেশনকাল [তারিখ] তারিখে শেষ হয়েছে। আমার চাকরি স্থায়ীকরণের চিঠি প্রদানের অনুরোধ জানাচ্ছি।"

উত্তর লিখিত রাখুন। প্রবেশনকাল বাড়ানো হলে কারণ আর নতুন শেষ তারিখ লিখিতভাবে চান।

বছরের পর বছর প্রবেশনে রাখলে

  • নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, বেতনের স্লিপ আর হাজিরার রেকর্ড সংরক্ষণ করুন।
  • লিখিতভাবে স্থায়ীকরণ চান।
  • সমাধান না হলে সরকারি শ্রম সহায়তা আর অভিযোগের পথগুলো জানুন: বেতন না দিলে কোথায় যাবেন লেখায় হেল্পলাইন, পরিদর্শন অধিদপ্তর আর শ্রম আদালতের ধাপ আছে।
  • নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন শ্রম আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

অন্যদের জানান

কোন প্রতিষ্ঠান প্রবেশনকাল ঠিকমতো শেষ করে আর কোনটা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখে, এই তথ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি কেমন-এ নাম প্রকাশ না করে রিভিউ দিন, আর যোগ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি খুঁজে দেখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

শ্রম আইনে প্রবেশনকাল কত দিন?

ধারা ৪ অনুযায়ী করণিক কাজে ছয় মাস, অন্যান্য শ্রমিকের ক্ষেত্রে তিন মাস। দক্ষ শ্রমিকের কাজের মান যাচাই করা না গেলে আরও তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

প্রবেশন শেষে স্থায়ীকরণের চিঠি না দিলে কী হয়?

শ্রম আইনের আওতাভুক্ত শ্রমিক প্রবেশনকাল শেষে কাজে বহাল থাকলে চিঠি না পেলেও স্থায়ী বলে গণ্য হন। তবু লিখিত স্থায়ীকরণ চেয়ে নেওয়া ভালো।

প্রবেশনকালে কি ওভারটাইমের টাকা পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, শ্রম আইন প্রযোজ্য হলে কর্মঘণ্টার সীমা আর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিগুণ হারে মজুরির নিয়ম প্রবেশনকালেও প্রযোজ্য।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন