চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি খোঁজা৩ মিনিটে পড়ুন

গ্রুপ ডিসকাশন (জিডি) টিপস: চিৎকার না করে কীভাবে চোখে পড়বেন

ব্যাংক, এমটিও আর বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে গ্রুপ ডিসকাশনে বোর্ড আসলে কী দেখে, কীভাবে শুরু করবেন, আলোচনায় কীভাবে ঢুকবেন, কারও সঙ্গে দ্বিমত হলে কী করবেন, আর প্রায়ই আসা বিষয়।

গোল টেবিলে আলোচনারত ছয়জন প্রার্থী, পাশে নোট নিচ্ছেন পর্যবেক্ষক

ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি, বেসরকারি ব্যাংক আর বড় করপোরেটের নিয়োগে অনেক সময় একটা ধাপ থাকে: গ্রুপ ডিসকাশন বা জিডি। ছয় থেকে দশজন প্রার্থীকে একটা বিষয় দেওয়া হয়, পনেরো-বিশ মিনিট আলোচনা করতে হয়, আর বোর্ড পাশে বসে দেখে। অনেকে ভাবেন যে সবচেয়ে বেশি কথা বলবে সে জিতবে। আসলে প্রায়ই উল্টো হয়।

বোর্ড আসলে কী দেখে

  • বিষয়ের জ্ঞান আর যুক্তি: আপনার কথায় তথ্য আর যুক্তি আছে কি না।
  • যোগাযোগ: স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, গুছিয়ে বলা।
  • শোনার ক্ষমতা: অন্যের কথা শুনে তার ওপর ভিত্তি করে বলা।
  • নেতৃত্ব: আলোচনাকে দিক দেওয়া, চুপ থাকা কাউকে সুযোগ করে দেওয়া, সারসংক্ষেপ।
  • দলগত মানসিকতা: অন্যকে ছোট না করা, ভদ্রভাবে দ্বিমত।
  • চাপের মধ্যে আচরণ: কেউ কথা কেটে দিলে বা আক্রমণাত্মক হলে আপনি কী করেন।

কীভাবে শুরু করবেন

বিষয় ঘোষণার পর সাধারণত এক-দুই মিনিট ভাবার সময় দেওয়া হয়। এই সময়ে কাগজে তিনটা পয়েন্ট লিখে নিন: পক্ষে, বিপক্ষে, একটা উদাহরণ বা তথ্য।

শুরু করার সুযোগ পেলে নিন, তবে শুধু যদি গুছিয়ে বলতে পারেন। ভালো শুরু হলো বিষয়টা সংজ্ঞায়িত করা আর আলোচনার কাঠামো প্রস্তাব করা: "বিষয়টা হলো... আমরা চাইলে প্রথমে সুবিধা, তারপর ঝুঁকি, শেষে সমাধান নিয়ে বলতে পারি।" এতে আপনি নেতৃত্ব দেখান।

প্রথমে বলতে না পারলেও সমস্যা নেই; গুণগত মানের দুই-তিনটা অবদানই যথেষ্ট।

আলোচনায় কীভাবে ঢুকবেন

সবাই একসঙ্গে বললে ঢোকা কঠিন। উপায়:

  • কারও কথা শেষ হওয়ার মুহূর্তে ঢুকুন, তার কথার সূত্র ধরে: "আপনি যে খরচের কথা বললেন, তার সঙ্গে যোগ করি..."
  • হাত সামান্য তুলে বা "আমি একটা দিক যোগ করতে চাই" বলে।
  • গলা চড়িয়ে নয়, স্পষ্ট আর দৃঢ় স্বরে।

ভালো অবদানের বৈশিষ্ট্য

  • নতুন কিছু যোগ করে, আগের কথা আবার বলে না।
  • তথ্য বা উদাহরণসহ: "দেশে মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহক এখন বিশাল, তাই..."
  • সংক্ষিপ্ত: ত্রিশ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট।
  • অন্যদের নাম ধরে বা কথা উল্লেখ করে, যাতে আলোচনা জোড়া লাগে।

দ্বিমত হলে

"আপনি ভুল" নয়; বলুন, "আপনার কথার একটা অংশের সঙ্গে আমি একমত, তবে অন্য একটা দিক দেখা দরকার..." যুক্তি দিন, ব্যক্তিকে নয়, বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করুন।

কেউ বারবার কথা কেটে দিলে শান্তভাবে বলুন, "আমি কথাটা শেষ করি, তারপর আপনার মত শুনব।" এটা চাপের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ দেখায়।

চুপ থাকা কাউকে সুযোগ দিন

"আমরা এখনো [নাম/আপনার] মত শুনিনি, আপনি কী ভাবছেন?" এই একটা লাইন নেতৃত্ব আর দলগত মানসিকতার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ, আর বোর্ড এটা খেয়াল করে।

শেষে সারসংক্ষেপ

আলোচনার শেষে কেউ সারসংক্ষেপ না করলে আপনি করুন: মূল দুই-তিনটি দিক আর দল কোথায় একমত হলো। নিজের পয়েন্ট নয়, পুরো দলের আলোচনা। এটা খুব শক্তিশালী শেষ।

যা করবেন না

  • চিৎকার বা অন্যের কথার ওপর কথা বলা।
  • পুরো সময় একা কথা বলা।
  • একেবারে চুপ থাকা।
  • রাজনৈতিক বা ধর্মীয় আবেগী বক্তব্য।
  • ভুল তথ্য জোর দিয়ে বলা।
  • শুধু বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বলা; দলের সবার দিকে তাকান।

প্রায়ই আসা বিষয়ের ধরন

  • অর্থনীতি ও ব্যবসা: ক্যাশলেস সমাজ, ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মুদ্রাস্ফীতি।
  • প্রযুক্তি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চাকরি কেড়ে নেবে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব, অনলাইন শিক্ষা।
  • সমাজ: নারীর কর্মসংস্থান, যানজট, শহরমুখী অভিবাসন, তরুণ বেকারত্ব।
  • বিমূর্ত বিষয়: "লাল না নীল", "শূন্য"। এখানে সৃজনশীলতা আর কাঠামো দেখা হয়; বিষয়টাকে একটা বাস্তব প্রসঙ্গে নিয়ে যান।

নিয়মিত পত্রিকার সম্পাদকীয় আর অর্থনীতির খবর পড়লে এসব বিষয়ে তথ্য আর যুক্তি দুটোই হাতে থাকে।

অনুশীলন

চার-পাঁচজন বন্ধু মিলে সপ্তাহে একবার পনেরো মিনিটের জিডি করুন, একজন পর্যবেক্ষক থাকুক। পরে আলোচনা করুন কে কীভাবে ঢুকল, কে বেশি কথা বলল, কোন অবদান সবচেয়ে কাজের ছিল।

জিডির পর সাধারণত ব্যক্তিগত ইন্টারভিউ থাকে। প্রস্তুতি নিন ইন্টারভিউতে সবচেয়ে বেশি আসা ১৫টি প্রশ্ন আর "নিজের সম্পর্কে বলুন" এর উত্তর থেকে। আর নিয়োগের অভিজ্ঞতা, জিডির বিষয়সহ, চাকরি কেমন-এ লিখে দিন।

সাধারণ প্রশ্ন

গ্রুপ ডিসকাশনে কতবার কথা বলা উচিত?

নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই; গুণগত মানের দুই থেকে চারটি অবদান যথেষ্ট। প্রতিটিতে নতুন কিছু যোগ করুন, আর একটা সারসংক্ষেপ বা অন্যকে সুযোগ দেওয়া বড় প্লাস।

জিডিতে প্রথমে শুরু করা কি জরুরি?

না। গুছিয়ে শুরু করতে পারলে ভালো, কিন্তু অগোছালো শুরুর চেয়ে পরে ঢুকে ভালো অবদান রাখা অনেক বেশি মূল্যবান।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন