চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি খোঁজা৩ মিনিটে পড়ুন

বার্ষিক মূল্যায়ন (অ্যাপ্রেইজাল): নিজের মূল্যায়ন ফরম আর আলোচনার প্রস্তুতি

বার্ষিক কর্মমূল্যায়নে কী দেখা হয়, সেলফ-অ্যাপ্রেইজাল ফরম কীভাবে লিখবেন, সারা বছর কীভাবে প্রমাণ জমাবেন, ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে আলোচনায় কী বলবেন, আর মূল্যায়ন অন্যায্য মনে হলে কী করবেন।

মূল্যায়ন ফরমে তারকা চিহ্ন দেওয়া, পাশে বছরের অর্জনের তালিকা

বছর শেষে মূল্যায়ন (Performance Appraisal) অনেক কর্মীর কাছে আতঙ্কের বিষয়: একটা ফরম, একটা মিটিং, আর তার ওপর নির্ভর করে ইনক্রিমেন্ট, বোনাস, পদোন্নতি। অথচ মূল্যায়ন অনেকটাই নির্ভর করে আপনি নিজের কাজ কতটা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারছেন তার ওপর। ঊর্ধ্বতন আপনার প্রতিটি কাজ মনে রাখেন না; তাই প্রস্তুতি আপনার।

মূল্যায়নে সাধারণত যা দেখা হয়

  • লক্ষ্য পূরণ (KPI): বছরের শুরুতে যে লক্ষ্য ঠিক হয়েছিল, কতটা পূরণ হয়েছে।
  • কাজের মান আর সময়ানুবর্তিতা।
  • দক্ষতা: যোগাযোগ, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব।
  • উপস্থিতি আর শৃঙ্খলা।
  • উন্নতি: নতুন কী শিখেছেন।

প্রতিষ্ঠানভেদে ফরম আলাদা। বছরের শুরুতেই ফরমটা দেখে নিন, কীসের ভিত্তিতে বিচার হবে।

সারা বছর প্রমাণ জমান

মূল্যায়নের প্রস্তুতি শুরু হয় বছরের শুরুতে, শেষে নয়।

  • একটা "অর্জনের খাতা" রাখুন: প্রতি মাসের শেষে পাঁচ মিনিট, কী করেছেন, কী ফল, কোনো সংখ্যা থাকলে।
  • প্রশংসার ইমেইল সংরক্ষণ করুন: গ্রাহক, অন্য বিভাগ বা ঊর্ধ্বতনের।
  • বাড়তি দায়িত্ব লিখে রাখুন: কারও অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব, নতুনদের প্রশিক্ষণ।
  • সমস্যা আর সমাধান: কোন বাধা এসেছিল, কীভাবে পেরিয়েছেন।

বছর শেষে স্মৃতি থেকে লিখতে গেলে বড় কাজগুলোও ভুলে যাবেন।

সেলফ-অ্যাপ্রেইজাল ফরম লেখার নিয়ম

অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রথমে কর্মী নিজের মূল্যায়ন লেখেন। এটা আপনার সবচেয়ে বড় সুযোগ।

  • সংখ্যা আর ফল দিন: "গ্রাহক অভিযোগের সমাধান-সময় গড়ে ৩০% কমিয়েছি" বনাম "গ্রাহকসেবায় ভালো কাজ করেছি"।
  • লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন: প্রতিটি KPI-এর নিচে কী অর্জন হয়েছে।
  • সৎ থাকুন: যেখানে লক্ষ্য পূরণ হয়নি, কারণ আর আপনি কী করেছেন তা লিখুন। অস্বীকার করার চেয়ে এটা অনেক বিশ্বাসযোগ্য।
  • নিজেকে ছোট করবেন না: অনেকে বিনয়ের বশে নিজেকে কম নম্বর দেন, আর সেটাই ভিত্তি হয়ে যায়।
  • শেখার কথা লিখুন: কোন প্রশিক্ষণ, কোন নতুন দক্ষতা।
  • পরের বছরের লক্ষ্য: দুই-তিনটি, নির্দিষ্ট।

মূল্যায়ন মিটিং

  • শুনুন আগে: ঊর্ধ্বতনের মতামত পুরোটা শুনুন, মাঝখানে বাধা না দিয়ে।
  • প্রমাণ দিয়ে কথা বলুন: দ্বিমত থাকলে নির্দিষ্ট উদাহরণ দিন, আবেগ নয়।
  • উন্নতির জায়গা জিজ্ঞেস করুন: "পরের বছর আরও ভালো রেটিংয়ের জন্য কোথায় মনোযোগ দেওয়া দরকার?"
  • ক্যারিয়ারের কথা তুলুন: পদোন্নতি বা নতুন দায়িত্বে আগ্রহ। পড়ুন পদোন্নতি চাওয়ার নিয়ম।
  • বেতনের কথা: অনেক প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়ন আর ইনক্রিমেন্ট আলাদা আলোচনা; প্রযোজ্য হলে প্রস্তুতি নিন বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট লেখা থেকে।
  • শেষে সারসংক্ষেপ: কী রেটিং, পরের বছরের লক্ষ্য কী, আর কী সহায়তা পাবেন।

মূল্যায়ন অন্যায্য মনে হলে

  • শান্ত থাকুন, সেই মুহূর্তে তর্ক নয়।
  • লিখিতভাবে জানতে চান কোন ভিত্তিতে রেটিং, আর আপনার প্রমাণের তালিকা দিন।
  • প্রতিষ্ঠানের নীতিতে পুনর্বিবেচনার পথ আছে কি না দেখুন: অনেক জায়গায় এইচআর বা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায়।
  • ব্যক্তিগত বিদ্বেষের সন্দেহ হলে ঘটনাগুলোর রেকর্ড রাখুন। ঊর্ধ্বতনের আচরণ নিয়ে কিছু সতর্কসংকেত: খারাপ বস চেনার লক্ষণ।

মূল্যায়নের পর

  • ফরমের কপি নিজের কাছে রাখুন।
  • নতুন লক্ষ্যগুলো লিখিত আর পরিমাপযোগ্য কি না দেখুন।
  • উন্নতির পরিকল্পনা নিয়ে তিন মাস পর একটা ছোট আলোচনা চেয়ে রাখুন।

কোথায় মূল্যায়ন স্বচ্ছ

কিছু প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়ন পরিষ্কার লক্ষ্য আর নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতে হয়, কিছুতে পুরোটাই ঊর্ধ্বতনের মর্জি। চাকরি কেমন-এ কর্মীরা "ব্যবস্থাপনা" আর "উন্নতির সুযোগ" রেটিংয়ে এটা জানান। নতুন চাকরি বাছাইয়ের আগে প্রতিষ্ঠান খুঁজুন, আর আপনার অভিজ্ঞতা নাম প্রকাশ না করে জানান।

সাধারণ প্রশ্ন

সেলফ-অ্যাপ্রেইজাল ফরমে কী লিখব?

প্রতিটি লক্ষ্যের নিচে কী অর্জন করেছেন, সংখ্যা আর ফলসহ; বাড়তি দায়িত্ব; যেখানে লক্ষ্য পূরণ হয়নি তার কারণ; নতুন শেখা দক্ষতা; আর পরের বছরের দুই-তিনটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য।

মূল্যায়ন অন্যায্য হলে কী করব?

সেই মুহূর্তে তর্ক না করে লিখিতভাবে রেটিংয়ের ভিত্তি জানতে চান, নিজের প্রমাণের তালিকা দিন, আর প্রতিষ্ঠানের নীতিতে পুনর্বিবেচনার পথ থাকলে সেটা ব্যবহার করুন।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন