চাকরি খোঁজা৪ মিনিটে পড়ুন
টেলিটকে চাকরির আবেদন ফি দেওয়ার নিয়ম: দুই এসএমএসের সহজ গাইড
অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন জমার পর টেলিটক প্রিপেইড থেকে কীভাবে ফি দেবেন, কোন এসএমএসে কী লিখবেন, PIN না এলে বা ভুল হলে কী করবেন, আর ফি জমা হয়েছে কি না কীভাবে যাচাই করবেন।

অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন জমা দেওয়ার পর শেষ আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ফি জমা। ফি না দিলে আবেদন সম্পূর্ণ হয় না, যত সুন্দর করেই ফরম পূরণ করুন না কেন। বেশিরভাগ নিয়োগে ফি দিতে হয় টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে দুটি এসএমএস পাঠিয়ে। প্রক্রিয়াটা সহজ, কিন্তু একটা স্পেস বা অক্ষরের ভুলে এসএমএস কাজ করে না, আর অনেকে শেষ সময়ে গিয়ে বিপদে পড়েন।
পুরো আবেদন প্রক্রিয়া পাবেন অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন লেখায়। এখানে শুধু ফি জমার খুঁটিনাটি।
শুরুর আগে যা লাগবে
- আবেদন জমার পর পাওয়া User ID। আবেদনের কপিতে লেখা থাকে।
- একটা টেলিটক প্রিপেইড সিম, যেটা নিজের হতে হবে এমন নয়।
- ব্যালেন্স: আবেদন ফি আর দুটি এসএমএসের খরচের চেয়ে কিছু বেশি। ব্যালেন্স কম থাকলে দ্বিতীয় এসএমএস ব্যর্থ হয়।
- দপ্তরের সংক্ষিপ্ত কোড। প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা, যেমন তিন-চার অক্ষরের একটা শব্দ। বিজ্ঞপ্তি বা আবেদনের কপি থেকে হুবহু নিন।
- সময়সীমা। অনেক বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন জমার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, প্রায়ই ৭২ ঘণ্টা, ফি দিতে হয়। এর পরে User ID বাতিল হয়ে যেতে পারে।
প্রথম এসএমএস: User ID যাচাই
মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
[দপ্তরের কোড] স্পেস [User ID]
উদাহরণ (কাল্পনিক কোড): ABC 1234567890
পাঠান ১৬২২২ নম্বরে।
উত্তরে একটা ফিরতি এসএমএস আসবে, যেখানে প্রার্থীর নাম আর ফি জমা দেওয়ার জন্য একটা PIN থাকবে। নামটা মিলিয়ে নিন; অন্য কারও নাম এলে বুঝবেন User ID ভুল লিখেছেন।
দ্বিতীয় এসএমএস: ফি জমা নিশ্চিত
আবার মেসেজে লিখুন:
[দপ্তরের কোড] স্পেস YES স্পেস [PIN] স্পেস [যোগাযোগের মোবাইল নম্বর]
উদাহরণ: ABC YES 12345678 01XXXXXXXXX
পাঠান ১৬২২২ নম্বরে।
উত্তরে আসবে ফি জমার নিশ্চয়তা, সাধারণত সঙ্গে User ID আর পাসওয়ার্ড, যা দিয়ে পরে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করবেন। এই এসএমএস মুছবেন না; স্ক্রিনশট রাখুন।
যোগাযোগের নম্বর হিসেবে নিজের সক্রিয় নম্বর দিন, টেলিটক না হলেও চলে। পরীক্ষার তারিখ আর গুরুত্বপূর্ণ খবর এই নম্বরে আসবে।
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
- স্পেস ভুল। কোড আর User ID-র মাঝে একটা স্পেস। দুটো স্পেস, বা স্পেস না দেওয়া, দুটোই ভুল।
- অক্ষর ভুল। কোডের অক্ষর বিজ্ঞপ্তির মতো লিখুন। User ID-তে শূন্য (0) আর ইংরেজি O গুলিয়ে ফেলবেন না।
- ভুল নম্বরে পাঠানো। নম্বরটা ১৬২২২।
- প্রথম এসএমএসের PIN দ্বিতীয়বার না দিয়ে আবার প্রথম এসএমএস পাঠানো। এতে নতুন PIN আসে; সর্বশেষ PIN ব্যবহার করুন।
- ব্যালেন্স কম। দ্বিতীয় এসএমএস পাঠানোর সময় ফির পুরো টাকা কাটা হয়।
- পোস্টপেইড সিম ব্যবহার। সাধারণত প্রিপেইড সিম লাগে। বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
- শেষ ঘণ্টায় ফি দেওয়া। নেটওয়ার্ক বা সার্ভারের ভিড়ে এসএমএস দেরিতে পৌঁছাতে পারে।
PIN না এলে কী করবেন
- কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর এসএমএসটা আবার ঠিকভাবে পাঠান।
- User ID আবেদনের কপির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- কোডটা সঠিক দপ্তরের কি না দেখুন; একই সময়ে কয়েকটা বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করলে কোড গুলিয়ে যায়।
- আবেদন জমার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে কি না দেখুন।
- তারপরও না হলে টেলিটকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করুন, বা বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সহায়তার ঠিকানায় ইমেইল করুন। User ID আর এসএমএসের স্ক্রিনশট সঙ্গে দিন।
ফি জমা হয়েছে কি না যাচাই
- দ্বিতীয় এসএমএসের উত্তরে নিশ্চয়তার বার্তা এসেছে কি না।
- আবেদনের ওয়েবসাইটে User ID দিয়ে লগইন বা আবেদনের অবস্থা দেখার ব্যবস্থা থাকলে সেখানে "Paid" দেখাচ্ছে কি না।
- টেলিটক ব্যালেন্স থেকে ফির টাকা কাটা হয়েছে কি না।
টাকা কেটে গেছে কিন্তু নিশ্চয়তা আসেনি, এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনশট রেখে সহায়তার ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।
হারানো User ID বা পাসওয়ার্ড
প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সময় User ID বা পাসওয়ার্ড খুঁজে না পেলে অনেক ওয়েবসাইটে "Recover User ID" বা "Forgot Password" অপশন থাকে। কখনো কখনো এর জন্যও এসএমএস পাঠাতে হয়, যেমন [কোড] স্পেস HELP স্পেস ... জাতীয় ফরম্যাটে। নির্দিষ্ট ফরম্যাট সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নির্দেশনায় থাকে।
ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি আবেদনের জন্য একটা খাতা বা নোট রাখুন: পদের নাম, দপ্তর, কোড, User ID, পাসওয়ার্ড আর ফি জমার তারিখ।
অন্যের দোকান থেকে ফি দেওয়ার সময়
অনেকে মোবাইল রিচার্জের দোকান থেকে ফি জমা দেন। সমস্যা নেই, তবে:
- নিশ্চয়তার এসএমএসের স্ক্রিনশট নিজের ফোনে নিয়ে নিন।
- পাসওয়ার্ড দোকানির ফোনে থেকে যায়, তাই পরে প্রয়োজন হলে লিখে রাখুন।
- যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দোকানির নয়, নিজের নম্বর দিন।
- "নিশ্চিত চাকরি" বা "প্রশ্ন ফাঁস" জাতীয় প্রস্তাব কেউ দিলে সেটা প্রতারণা।
ফি দেওয়ার পর পরের ধাপ
ফি জমার পর অপেক্ষা পরীক্ষার তারিখের। এ সময়টা প্রস্তুতিতে কাজে লাগান। লিখিত পরীক্ষার জন্য পড়ুন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি, আর মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিসিএস ও সরকারি চাকরির ভাইভা প্রস্তুতি।
চাকরি পাওয়ার পর কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা অন্যদের জানাতে পারেন চাকরি কেমন-এ, নাম প্রকাশ না করে। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখানে আছে: খুঁজে দেখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
টেলিটকে আবেদন ফি দিতে কোন নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হয়?
সাধারণত ১৬২২২ নম্বরে, দুটি এসএমএস। প্রথমটিতে [কোড] [User ID], দ্বিতীয়টিতে [কোড] YES [PIN] [যোগাযোগের নম্বর]। কোড প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা।
আবেদন জমার কত সময়ের মধ্যে ফি দিতে হয়?
অনেক বিজ্ঞপ্তিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, তবে বিজ্ঞপ্তিভেদে আলাদা। সময় পেরোলে User ID বাতিল হতে পারে, তখন নতুন করে আবেদন করতে হয়।
টাকা কেটেছে কিন্তু নিশ্চয়তার এসএমএস আসেনি, কী করব?
এসএমএস আর ব্যালেন্সের স্ক্রিনশট রেখে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সহায়তার ঠিকানায় বা টেলিটকের গ্রাহকসেবায় User ID-সহ যোগাযোগ করুন।
যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন
যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।
আরো পড়ুন

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
চাকরির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: নমুনাসহ সহজ গাইড
সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আবেদনপত্রে কী লিখবেন, কোন ক্রমে লিখবেন, কোন ভুলে আবেদন বাদ পড়ে, আর কপি করে ব্যবহার করার মতো দুটি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
যোগদানপত্র লেখার নিয়ম: নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার চিঠির নমুনা
নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথম দিনে যোগদানপত্র কীভাবে লিখবেন, কী কী কাগজ সঙ্গে নেবেন, আর সরকারি ও বেসরকারি চাকরির জন্য নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
অভিজ্ঞতা সনদ লেখার নিয়ম: নমুনা, কী থাকবে আর কীভাবে চাইবেন
চাকরি ছাড়ার সময় অভিজ্ঞতা সনদ কেন দরকার, সনদে কী কী তথ্য থাকা উচিত, প্রতিষ্ঠান দিতে না চাইলে কী করবেন, আর বাংলা ও ইংরেজি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৫ মিনিটে পড়ুন
বদলির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: সরকারি ও বেসরকারি চাকরির নমুনা
পারিবারিক কারণ, অসুস্থতা বা স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকার জন্য বদলির আবেদন কীভাবে লিখবেন, কোন যুক্তি কাজে লাগে, কোন পথে পাঠাবেন, আর তিনটি নমুনা।