চাকরি খোঁজা৫ মিনিটে পড়ুন
অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন: টেলিটকের মাধ্যমে ধাপে ধাপে
সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা থেকে অনলাইন ফরম পূরণ, ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড, টেলিটকে ফি জমা আর প্রবেশপত্র ডাউনলোড পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া, আর যে ভুলে আবেদন বাতিল হয়।

বেশিরভাগ সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের আবেদন এখন অনলাইনে হয়, আর এর বড় অংশ চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ব্যবস্থাপনায়। প্রক্রিয়াটা কঠিন নয়, কিন্তু একটা ভুল তথ্য বা ভুল মাপের ছবিতে আবেদন বাতিল হতে পারে, আর ফি দেওয়ার পর সাধারণত সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তাই ধাপগুলো আগে থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।
একটা কথা শুরুতেই: প্রতিটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নিজস্ব নির্দেশনা থাকে। নিচের ধাপগুলো সাধারণ প্রক্রিয়া; আপনার বিজ্ঞপ্তিতে ভিন্ন কিছু লেখা থাকলে সেটাই মানবেন।
ধাপ ১: বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পুরোটা পড়ুন
সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে, জাতীয় দৈনিকে, আর টেলিটকের সব চাকরির তালিকার পোর্টালে (alljobs.teletalk.com.bd)। বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন:
- পদের নাম, সংখ্যা আর গ্রেড।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: কোন ডিগ্রি, কোন বিষয়, ন্যূনতম ফল।
- বয়সসীমা আর কোন তারিখে বয়স গণনা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য আলাদা সীমা থাকলে সেটাও।
- জেলা কোটা বা কোন জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
- আবেদন শুরুর আর শেষের তারিখ ও সময়, আর ফি জমার শেষ সময়।
- আবেদন ফির পরিমাণ।
যোগ্যতা না মিললে আবেদন করবেন না। ফি ফেরত পাওয়া যায় না, আর পরে কাগজ যাচাইয়ের সময় বাদ পড়বেন।
ধাপ ২: আগে থেকে যা তৈরি রাখবেন
- ছবি: সাধারণত ৩০০×৩০০ পিক্সেল, ১০০ কিলোবাইটের মধ্যে, রঙিন, সাদা বা হালকা পটভূমিতে সদ্য তোলা। মাপ বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।
- স্বাক্ষর: সাধারণত ৩০০×৮০ পিক্সেল, ৬০ কিলোবাইটের মধ্যে। সাদা কাগজে কালো কালিতে স্বাক্ষর করে স্ক্যান বা ছবি তুলে কেটে নিন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর।
- সব সনদ হাতের কাছে: এসএসসি থেকে সর্বশেষ ডিগ্রি পর্যন্ত, যাতে রোল, রেজিস্ট্রেশন, বোর্ড, পাসের বছর আর ফল হুবহু তোলা যায়।
- একটা চালু মোবাইল নম্বর, যেটা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলাবেন না। পরীক্ষার তারিখ আর প্রবেশপত্রের খবর সাধারণত এসএমএসে আসে।
ছবি আর স্বাক্ষরের মাপ ঠিক করতে মোবাইলে অনেক ছবি সম্পাদনার অ্যাপ আছে; কম্পিউটারে সাধারণ ছবি সম্পাদনার সফটওয়্যারেই হয়।
ধাপ ৩: অনলাইন ফরম পূরণ
বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া ওয়েবসাইটে গিয়ে "Application Form" বা "আবেদন করুন" অংশে পদ বেছে নিন। ফরমে সাধারণত থাকে:
- ব্যক্তিগত তথ্য: নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ধর্ম, লিঙ্গ, জাতীয়তা।
- ঠিকানা: বর্তমান আর স্থায়ী, আলাদা করে। স্থায়ী ঠিকানার জেলা জেলা কোটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- শিক্ষাগত তথ্য: প্রতিটি পরীক্ষার নাম, বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়, রোল, ফল, বিষয়, পাসের বছর।
- কোটা বা বিশেষ শ্রেণি, প্রযোজ্য হলে।
- ছবি আর স্বাক্ষর আপলোড।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: নাম, পিতা-মাতার নাম আর জন্মতারিখ সনদপত্রে যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবে লিখুন। জাতীয় পরিচয়পত্র আর সনদে অমিল থাকলে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা দেখুন; সাধারণত এসএসসি সনদ অনুযায়ী লিখতে বলা হয়।
ধাপ ৪: প্রিভিউ দেখে জমা দিন
জমা দেওয়ার আগে "Preview" দেখায়। এখানে প্রতিটা ঘর মিলিয়ে নিন: বানান, রোল নম্বর, ফল, জেলা। জমা দেওয়ার পর একটা User ID পাবেন, আর আবেদনের কপি (Applicant's Copy) ডাউনলোডের সুযোগ। এই কপি প্রিন্ট বা সংরক্ষণ করুন। User ID ছাড়া পরের ধাপে এগোনো যায় না।
ধাপ ৫: টেলিটকে ফি জমা
বেশিরভাগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন জমার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (প্রায়ই ৭২ ঘণ্টা) টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে দুটি এসএমএস পাঠিয়ে ফি দিতে হয়। প্রচলিত ধরনটা এমন:
- প্রথম এসএমএস: [দপ্তরের সংক্ষিপ্ত কোড] স্পেস [User ID] লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠান। উত্তরে প্রার্থীর নাম আর একটা PIN আসবে।
- দ্বিতীয় এসএমএস: [দপ্তরের কোড] স্পেস YES স্পেস [PIN] স্পেস [যোগাযোগের মোবাইল নম্বর] লিখে ১৬২২২-এ পাঠান। উত্তরে ফি জমার নিশ্চয়তা আসবে।
দপ্তরের কোড প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা, তাই বিজ্ঞপ্তি থেকে হুবহু তুলবেন। টেলিটক প্রিপেইড নম্বরে ফি আর এসএমএস খরচের সমান ব্যালেন্স রাখুন। এসএমএস পাঠানোর ধাপ নিয়ে বিস্তারিত আর সাধারণ ভুলগুলো আছে টেলিটকে আবেদন ফি দেওয়ার নিয়ম লেখায়।
নিজের টেলিটক নম্বর না থাকলে অন্য কারও টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকেও ফি দেওয়া যায়; দ্বিতীয় এসএমএসে যে যোগাযোগ নম্বর দেবেন, সেটা যেন আপনার নিজের হয়।
ধাপ ৬: প্রবেশপত্র
পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলে সাধারণত এসএমএসে জানানো হয়, আর একই ওয়েবসাইট থেকে User ID ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশপত্র (Admit Card) ডাউনলোড করতে হয়। রঙিন প্রিন্ট করে রাখুন; পরীক্ষার হলে আর মৌখিক পরীক্ষায় লাগবে। User ID বা পাসওয়ার্ড হারালে ওয়েবসাইটে পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা থাকে, তবে আবেদনের কপি সংরক্ষণ করলে এই ঝামেলাই হয় না।
যে ভুলে আবেদন বাতিল হয়
- যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদন, বা বয়স এক দিন বেশি।
- নাম বা জন্মতারিখের বানান সনদের সঙ্গে না মেলা।
- ভুল ছবি: সেলফি, পুরোনো ছবি, কালো চশমা বা টুপি পরা ছবি, অন্য কারও ছবি।
- ফি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না দেওয়া। ফি না দিলে আবেদন সম্পূর্ণ হয় না।
- একই পদে একাধিকবার আবেদন।
- শেষ দিনের ভিড়ে আবেদন। সার্ভার ধীর হয়ে যায়; কয়েক দিন আগে করুন।
দালাল আর ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে সাবধান
সরকারি চাকরির আবেদন নিজেই করা যায়। কম্পিউটারের দোকানে করালে তথ্যগুলো নিজে বসে মিলিয়ে নিন। "নিশ্চিত চাকরি" বা "লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই" নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে সেটা প্রতারণা। শুধু বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন করুন। প্রতারণা চেনার উপায় পড়ুন ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন চেনার উপায়।
আবেদনের পর প্রস্তুতি
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি আর মৌখিক পরীক্ষার জন্য দেখুন বিসিএস ও সরকারি চাকরির ভাইভা প্রস্তুতি। সরকারি না বেসরকারি, কোন চাকরি আপনার জন্য ভালো, তা নিয়ে ভাবতে পড়ুন সরকারি না বেসরকারি চাকরি।
সরকারি দপ্তরও কর্মস্থল, আর সেখানকার কর্মীদের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি কেমন-এ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক সরকারি দপ্তর আর হাসপাতালের পেজ আছে। খুঁজে দেখুন, আর সেখানে কাজ করলে নাম প্রকাশ না করে অভিজ্ঞতা জানান।
সাধারণ প্রশ্ন
সরকারি চাকরির আবেদনে ছবির মাপ কত হতে হয়?
বেশিরভাগ বিজ্ঞপ্তিতে ছবি ৩০০×৩০০ পিক্সেল, ১০০ কিলোবাইটের মধ্যে, আর স্বাক্ষর ৩০০×৮০ পিক্সেল, ৬০ কিলোবাইটের মধ্যে। তবে প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।
আবেদন জমার পর কি তথ্য সংশোধন করা যায়?
সাধারণত ফি জমার পর সংশোধনের সুযোগ থাকে না। কিছু ক্ষেত্রে ফি দেওয়ার আগে নতুন করে আবেদন করা যায়। তাই জমার আগে প্রিভিউ ভালো করে মিলিয়ে নিন।
অন্যের টেলিটক নম্বর থেকে কি ফি দেওয়া যায়?
সাধারণত হ্যাঁ, যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে। দ্বিতীয় এসএমএসে যোগাযোগের নম্বর হিসেবে নিজের নম্বর দিন, যাতে পরীক্ষার খবর আপনার কাছে আসে।
যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন
যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।
আরো পড়ুন

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
চাকরির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: নমুনাসহ সহজ গাইড
সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আবেদনপত্রে কী লিখবেন, কোন ক্রমে লিখবেন, কোন ভুলে আবেদন বাদ পড়ে, আর কপি করে ব্যবহার করার মতো দুটি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
যোগদানপত্র লেখার নিয়ম: নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার চিঠির নমুনা
নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথম দিনে যোগদানপত্র কীভাবে লিখবেন, কী কী কাগজ সঙ্গে নেবেন, আর সরকারি ও বেসরকারি চাকরির জন্য নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
অভিজ্ঞতা সনদ লেখার নিয়ম: নমুনা, কী থাকবে আর কীভাবে চাইবেন
চাকরি ছাড়ার সময় অভিজ্ঞতা সনদ কেন দরকার, সনদে কী কী তথ্য থাকা উচিত, প্রতিষ্ঠান দিতে না চাইলে কী করবেন, আর বাংলা ও ইংরেজি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৫ মিনিটে পড়ুন
বদলির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: সরকারি ও বেসরকারি চাকরির নমুনা
পারিবারিক কারণ, অসুস্থতা বা স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকার জন্য বদলির আবেদন কীভাবে লিখবেন, কোন যুক্তি কাজে লাগে, কোন পথে পাঠাবেন, আর তিনটি নমুনা।