চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি খোঁজা৩ মিনিটে পড়ুন

সরকারি না বেসরকারি চাকরি: বেতন, নিরাপত্তা, উন্নতি আর জীবনের তুলনা

সরকারি আর বেসরকারি চাকরির বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা, পদোন্নতি, কাজের চাপ, বদলি, অবসর সুবিধা আর ব্যক্তিগত পছন্দের দিকগুলো পাশাপাশি তুলনা, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েকটি প্রশ্ন।

দুই দিকে যাওয়া রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো একজন তরুণ, এক দিকে সরকারি ভবন অন্য দিকে করপোরেট অফিস

বাংলাদেশে স্নাতকদের সবচেয়ে বড় দ্বিধাগুলোর একটি: সরকারি চাকরির জন্য বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেব, নাকি এখনই বেসরকারি চাকরিতে ঢুকে যাব? পরিবার প্রায়ই সরকারি চাকরির পক্ষে, আর বন্ধুরা হয়তো বেসরকারিতে দ্রুত এগোচ্ছে। কোনো একটা উত্তর সবার জন্য সঠিক নয়। নিচে পাশাপাশি তুলনা, যাতে নিজের অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

বেতন

  • সরকারি: জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক বেতন আর নির্দিষ্ট বার্ষিক বৃদ্ধি। সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা আর অন্যান্য ভাতা নিয়ম অনুযায়ী। শুরুতে অনেক বেসরকারি চাকরির তুলনায় কম মনে হতে পারে, তবে নিশ্চিত আর নিয়মিত।
  • বেসরকারি: প্রতিষ্ঠান, খাত আর দক্ষতাভেদে ব্যাপক পার্থক্য। কিছু খাতে (যেমন আইটি, বহুজাতিক, কিছু ব্যাংক) শুরু থেকেই বেশি, আর দক্ষতা বাড়লে দ্রুত বাড়ে; আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর একই থাকে।

খাতভিত্তিক বেতনের তথ্য কর্মীদের কাছ থেকে দেখুন বেতনের পাতায়।

চাকরির নিরাপত্তা

  • সরকারি: স্থায়ী হওয়ার পর চাকরি হারানোর ঝুঁকি খুব কম; শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থার নির্দিষ্ট বিধিমালা আছে।
  • বেসরকারি: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা আর বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ছাঁটাই সম্ভব, তবে শ্রম আইনের আওতাভুক্ত হলে নোটিশ আর ক্ষতিপূরণের নিয়ম আছে। পড়ুন ছাঁটাই বা বরখাস্ত: আপনার অধিকার।

পদোন্নতি আর উন্নতি

  • সরকারি: জ্যেষ্ঠতা, নির্দিষ্ট মেয়াদ আর বিধিমালার ভিত্তিতে; অনেক সময় ধীর আর পদ খালি হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
  • বেসরকারি: দক্ষতা আর ফলের ভিত্তিতে দ্রুত হতে পারে; চাকরি বদলেও উচ্চতর পদে যাওয়া যায়। আবার অস্বচ্ছ পদোন্নতিও অনেক প্রতিষ্ঠানে সমস্যা।

কাজের চাপ আর সময়

  • সরকারি: অফিস সময় নির্দিষ্ট, ছুটির নিয়ম পরিষ্কার। তবে মাঠ প্রশাসন, স্বাস্থ্য আর কিছু দপ্তরে চাপ অনেক।
  • বেসরকারি: প্রতিষ্ঠানভেদে খুব আলাদা। কোথাও ভারসাম্য ভালো, কোথাও নিয়মিত দেরি পর্যন্ত কাজ আর ছুটির দিনেও ফোন। কর্মঘণ্টার আইনি সীমা জানুন: কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটির নিয়ম।

বদলি আর কর্মস্থল

  • সরকারি: নিয়মিত বদলি, প্রায়ই দেশের যেকোনো জায়গায়, দুর্গম এলাকাসহ। পরিবারের জন্য এটা বড় বিবেচ্য।
  • বেসরকারি: বেশিরভাগ চাকরি শহরকেন্দ্রিক, বিশেষ করে ঢাকায়; তবে ব্যাংক, এনজিও আর বিক্রয় পদে বদলি আছে। বদলির আবেদন নিয়ে পড়ুন বদলির আবেদনপত্র।

অবসর আর দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা

  • সরকারি: পেনশন ব্যবস্থা (প্রযোজ্য নিয়মে) আর সরকারি ভবিষ্য তহবিল, যা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার বড় উৎস।
  • বেসরকারি: পেনশন সাধারণত নেই; প্রভিডেন্ট ফান্ড আর গ্র্যাচুইটি প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করে। তাই বেসরকারি চাকরিতে নিজের সঞ্চয় পরিকল্পনা আরও জরুরি। পড়ুন প্রভিডেন্ট ফান্ড কী।

প্রবেশের পথ

দুটো একসঙ্গে?

অনেকে বেসরকারি চাকরি করতে করতে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেন। এতে আয় থাকে, অভিজ্ঞতা বাড়ে, আর বয়সসীমার চাপও কিছুটা সামলানো যায়। তবে সময় ব্যবস্থাপনা কঠিন; নিজের সামর্থ্য বুঝে পরিকল্পনা করুন।

সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে পাঁচটি প্রশ্ন

  • আমার কাছে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ: নিশ্চয়তা, নাকি দ্রুত আয় আর উন্নতি?
  • বদলি হয়ে দূরে থাকা আমার আর পরিবারের পক্ষে কতটা সম্ভব?
  • প্রস্তুতির জন্য কয়েক বছর আয় ছাড়া বা কম আয়ে থাকতে পারব?
  • আমার দক্ষতা কোন খাতে বেশি মূল্য পায়?
  • দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাই?

কর্মস্থলের আসল চিত্র জানুন

সরকারি হোক বা বেসরকারি, প্রতিটি কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা আলাদা। চাকরি কেমন-এ তিন হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের পেজ আছে, জেলা-উপজেলার সরকারি দপ্তর আর হাসপাতাল থেকে ব্যাংক, আইটি আর গার্মেন্টস পর্যন্ত, যেখানে কর্মীরা নাম প্রকাশ না করে লেখেন। খুঁজে দেখুন, দুটো প্রতিষ্ঠান তুলনা করুন, আর আপনার অভিজ্ঞতা জানান।

সাধারণ প্রশ্ন

সরকারি চাকরিতে বেতন কি বেসরকারির চেয়ে কম?

শুরুতে অনেক বেসরকারি চাকরির তুলনায় কম মনে হতে পারে, তবে নিশ্চিত বার্ষিক বৃদ্ধি, ভাতা আর পেনশন মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা আছে। বেসরকারিতে খাত আর দক্ষতাভেদে পার্থক্য অনেক।

বেসরকারি চাকরি করে কি সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া যায়?

অনেকেই নেন। এতে আয় আর অভিজ্ঞতা দুটোই থাকে, তবে সময় ব্যবস্থাপনা কঠিন। নিজের সামর্থ্য আর বয়সসীমা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করুন।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন