চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি খোঁজা৪ মিনিটে পড়ুন

বিসিএস ও সরকারি চাকরির ভাইভা প্রস্তুতি: কী পড়বেন, কীভাবে বলবেন

বিসিএস আর অন্যান্য সরকারি চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ড কী দেখে, কোন বিষয়গুলো প্রায়ই আসে, নিজের জেলা আর বিষয় থেকে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন, আর ভাইভার দিনের আচরণ।

সরকারি দপ্তরের ভাইভা কক্ষে বোর্ডের সামনে আত্মবিশ্বাসী প্রার্থী

বিসিএস বা যেকোনো সরকারি চাকরির ভাইভা অনেকের কাছে সবচেয়ে ভয়ের ধাপ। লিখিত পরীক্ষায় নম্বর নিজের হাতে থাকে, কিন্তু ভাইভায় মনে হয় সব বোর্ডের মর্জির ওপর। আসলে ভাইভারও একটা ধরন আছে। বোর্ড দেখে আপনার ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপন, দেশ ও সমাজ সম্পর্কে ধারণা, আর আপনার নিজের বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান। প্রস্তুতি গুছিয়ে নিলে ভয় অনেকটাই কমে।

বিসিএসের পরীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। নম্বর বণ্টন, পাস নম্বর আর নিয়ম প্রতিটি বিজ্ঞপ্তি আর কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনায় দেখে নিন। এখানে প্রস্তুতির সাধারণ কৌশল।

বোর্ড আসলে কী দেখে

  • উপস্থাপন: গুছিয়ে, স্পষ্ট আর শান্তভাবে কথা বলতে পারেন কি না।
  • সততা: না জানলে স্বীকার করেন, নাকি বানিয়ে বলেন।
  • দেশ ও সমাজ সম্পর্কে ধারণা: ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, অর্থনীতি, সাম্প্রতিক ঘটনা।
  • নিজের বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান।
  • যে ক্যাডার বা পদ চান, তার দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা।
  • আচরণ: বিনয়, আত্মবিশ্বাস, অতিরিক্ত নার্ভাসনেস বা ঔদ্ধত্য কোনোটাই নয়।

প্রস্তুতির পাঁচটি স্তম্ভ

১. নিজের পরিচয়। নাম, অর্থসহ (অনেক বোর্ড নামের অর্থ জিজ্ঞেস করে), পিতা-মাতার পেশা, পড়াশোনার পথ, কেন এই বিষয়ে পড়েছেন। "নিজের সম্পর্কে বলুন" এর উত্তর এক মিনিটের মধ্যে গুছিয়ে রাখুন: "নিজের সম্পর্কে বলুন" এর উত্তর।

২. নিজের জেলা ও উপজেলা। নামকরণের ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তি, দর্শনীয় স্থান, প্রধান নদী, ফসল, শিল্প, মুক্তিযুদ্ধে জেলার ভূমিকা, স্থানীয় কোনো সমস্যা আর তার সমাধানের ভাবনা। এটা প্রায় নিশ্চিত প্রশ্ন, আর না পারলে খারাপ ছাপ পড়ে।

৩. নিজের পড়াশোনার বিষয়। মৌলিক সংজ্ঞা আর ধারণা, বিষয়ের সঙ্গে দেশের উন্নয়নের যোগ, আর থিসিস করে থাকলে তার মূল কথা। "আপনার বিষয় প্রশাসনে কীভাবে কাজে লাগবে?" জাতীয় প্রশ্নের উত্তর ভেবে রাখুন।

৪. পছন্দের ক্যাডার বা পদ। প্রথম পছন্দের ক্যাডার কেন, সেই ক্যাডারের দায়িত্ব কী, মাঠ পর্যায়ে কী কাজ, সাম্প্রতিক কোনো উদ্যোগ। পছন্দক্রম নিয়ে প্রশ্ন এলে যুক্তিসংগত, সৎ উত্তর দিন।

৫. দেশ, সংবিধান ও সাম্প্রতিক বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের মূল ঘটনা আর তারিখ, সংবিধানের মৌলিক অনুচ্ছেদ আর রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, অর্থনীতির মূল সূচক, বাজেট, পররাষ্ট্রনীতি, আর ভাইভার আগের কয়েক মাসের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবর। পত্রিকার সম্পাদকীয় পড়ার অভ্যাস এখানে খুব কাজে দেয়।

প্রায়ই আসা প্রশ্নের ধরন

  • আপনার নামের অর্থ কী? এই নামে বিখ্যাত কে আছেন?
  • আপনার জেলার নামকরণ কীভাবে? জেলার একটা বড় সমস্যা আর তার সমাধান?
  • প্রথম পছন্দ এই ক্যাডার কেন?
  • আপনার বিষয় এই ক্যাডারে কীভাবে কাজে লাগবে?
  • মুক্তিযুদ্ধের অমুক ঘটনা সম্পর্কে বলুন।
  • সংবিধানের অমুক বিষয়ে কী বলা আছে?
  • সাম্প্রতিক অমুক ঘটনা নিয়ে আপনার মত কী?
  • কর্মস্থলে দুর্নীতির প্রস্তাব এলে কী করবেন?
  • একজন সেবাপ্রার্থী অসন্তুষ্ট হয়ে অভিযোগ করলে কী করবেন?
  • ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে বা জেলা সম্পর্কে দুই-তিন লাইন বলুন।

মতামতের প্রশ্নে ভারসাম্যপূর্ণ উত্তর দিন: বিষয়ের দুই দিক, তথ্যভিত্তিক যুক্তি, আর সমাধানমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। দলীয় রাজনৈতিক অবস্থান বা আবেগী বক্তব্য এড়িয়ে চলুন।

মক ভাইভা: সবচেয়ে কার্যকর অনুশীলন

  • বন্ধু বা আগে উত্তীর্ণ কাউকে বোর্ড বানিয়ে অন্তত তিন-চারবার মক ভাইভা দিন।
  • মোবাইলে ভিডিও করে দেখুন: কথা খুব দ্রুত বলছেন কি না, চোখ কোথায় যাচ্ছে, হাত কী করছে।
  • একই প্রশ্নের উত্তর বারবার মুখস্থ না করে নিজের ভাষায় বলার অভ্যাস করুন।

ভাইভার দিন

  • প্রবেশপত্র, মূল সনদ, সত্যায়িত কপি আর অন্যান্য কাগজ কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গুছিয়ে নিন। একটা চেকলিস্ট বানান।
  • আনুষ্ঠানিক, মার্জিত পোশাক। পোশাক ও আচরণ নিয়ে পড়ুন ইন্টারভিউতে পোশাক ও আচরণ।
  • নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে পৌঁছান।
  • কক্ষে ঢোকার আগে অনুমতি নিন, সালাম দিন, বসতে বললে বসুন।
  • প্রশ্ন বুঝতে না পারলে বিনয়ের সঙ্গে আবার জিজ্ঞেস করুন।
  • না জানলে স্বীকার করুন: "দুঃখিত, এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।" এক-দুটো না পারা স্বাভাবিক।
  • তর্ক করবেন না। বোর্ডের কোনো মন্তব্যে দ্বিমত থাকলে বিনয়ের সঙ্গে নিজের যুক্তি বলুন, তারপর থামুন।
  • শেষে ধন্যবাদ দিয়ে বের হন।

নার্ভাস লাগলে

হাত কাঁপা, গলা শুকিয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। বোর্ড এটা জানে। ধীরে শ্বাস নিন, উত্তরের আগে এক মুহূর্ত ভাবুন, ছোট বাক্যে বলুন। প্রথম দুই-তিনটি প্রশ্নের পর সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে আসে।

অন্যান্য সরকারি চাকরির ভাইভা

নন-ক্যাডার, অধিদপ্তর বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভাইভা সাধারণত ছোট হয়, তবে ধরন একই: পরিচয়, জেলা, বিষয়, পদের দায়িত্ব আর সাধারণ জ্ঞান। আবেদনের প্রক্রিয়া জানতে পড়ুন অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন।

সরকারি কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা

চাকরি পাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্য মূল্যবান। চাকরি কেমন-এ জেলা ও উপজেলার সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেজ আছে। নাম প্রকাশ না করে অভিজ্ঞতা জানান, আর ভাইভার অভিজ্ঞতা এখানে লিখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

বিসিএস ভাইভায় নিজের জেলা নিয়ে কী কী জানা দরকার?

নামকরণের ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তি, দর্শনীয় স্থান, নদী, প্রধান ফসল ও শিল্প, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা, আর একটা স্থানীয় সমস্যা ও তার সমাধানের ভাবনা।

ভাইভায় রাজনৈতিক প্রশ্ন এলে কী করব?

তথ্যভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ উত্তর দিন: বিষয়ের দুই দিক আর সমাধানমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। দলীয় অবস্থান বা আবেগী বক্তব্য এড়িয়ে চলুন।

মক ভাইভা কি সত্যিই কাজে আসে?

হ্যাঁ। অন্যের সামনে বলার অভ্যাস নার্ভাসনেস কমায়, আর ভিডিও করে দেখলে বলার গতি, চোখের দৃষ্টি আর অঙ্গভঙ্গির দুর্বলতা ধরা পড়ে।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন