চাকরি খোঁজা৩ মিনিটে পড়ুন
ইন্টারভিউতে পোশাক ও আচরণ: প্রথম ছাপ যেভাবে ভালো রাখবেন
ছেলে ও মেয়েদের জন্য ইন্টারভিউর উপযুক্ত পোশাক, খাতভেদে পার্থক্য, কক্ষে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত আচরণের খুঁটিনাটি, শরীরী ভাষা, আর যে ছোট ভুলগুলো বড় ক্ষতি করে।

ইন্টারভিউর প্রথম কয়েক সেকেন্ডে, আপনি একটা শব্দ বলার আগেই, বোর্ড আপনার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে ফেলে: আপনার পোশাক, হাঁটা, বসা আর মুখের ভাব দেখে। এটা ন্যায্য কি না সেটা ভিন্ন প্রশ্ন, কিন্তু বাস্তব। ভালো খবর হলো, প্রথম ছাপ ভালো রাখতে দামি কিছু লাগে না; লাগে পরিচ্ছন্নতা, উপযুক্ততা আর কিছু সাধারণ আচরণবিধি।
মূল নীতি: পরিচ্ছন্ন, মার্জিত, আরামদায়ক
পোশাক নতুন বা দামি হওয়া জরুরি নয়। জরুরি হলো:
- পরিষ্কার আর ইস্তিরি করা।
- ঠিক মাপের: খুব ঢিলা বা খুব আঁটসাঁট নয়।
- সাধারণ রঙ: সাদা, হালকা নীল, ধূসর, গাঢ় নীল, কালো। উজ্জ্বল রঙ আর বড় নকশা এড়িয়ে চলুন।
- আরামদায়ক: যাতে পুরো সময় পোশাক ঠিক করায় মন না যায়।
ছেলেদের পোশাক
- শার্ট: ফুল হাতা, সাদা বা হালকা রঙের, প্যান্টে গুঁজে।
- প্যান্ট: ফরমাল প্যান্ট, গাঢ় রঙ। জিন্স নয়।
- টাই: ব্যাংক, বহুজাতিক আর করপোরেটে প্রত্যাশিত; সাধারণ নকশার। এনজিও বা আইটিতে সবসময় লাগে না।
- ব্লেজার বা স্যুট: ব্যাংক আর উচ্চ পদের ইন্টারভিউতে ভালো, তবে গরমে অস্বস্তিকর হলে ফরমাল শার্টই যথেষ্ট।
- জুতা: পরিষ্কার, পালিশ করা ফরমাল জুতা, বেল্টের সঙ্গে মিলিয়ে। স্যান্ডেল বা স্নিকার্স নয়।
- চুল আর দাড়ি: পরিপাটি।
মেয়েদের পোশাক
- শাড়ি: সুতি বা হালকা সিল্ক, সাধারণ রঙ আর নকশা। ব্যাংক আর সরকারি ভাইভায় খুব প্রচলিত।
- সালোয়ার-কামিজ: মার্জিত রঙ, সাধারণ নকশা, ওড়নাসহ বা পছন্দমতো। সবচেয়ে প্রচলিত আর আরামদায়ক।
- ফরমাল ওয়েস্টার্ন পোশাক: বহুজাতিক বা আইটি প্রতিষ্ঠানে চলে, মার্জিত হলে।
- হিজাব: ব্যক্তিগত পছন্দ; পরিপাটি হলেই হলো।
- গয়না আর মেকআপ: হালকা। উচ্চ শব্দের চুড়ি বা অতিরিক্ত গয়না মনোযোগ সরায়।
- জুতা: আরামদায়ক, পরিষ্কার; খুব উঁচু হিল নয়।
খাতভেদে পার্থক্য
- ব্যাংক, বহুজাতিক, করপোরেট: সবচেয়ে আনুষ্ঠানিক।
- সরকারি ভাইভা: আনুষ্ঠানিক আর রক্ষণশীল।
- এনজিও আর উন্নয়ন খাত: পরিচ্ছন্ন আনুষ্ঠানিক, তবে অতিরিক্ত জাঁকজমক বেমানান।
- আইটি আর স্টার্টআপ: কিছুটা কম আনুষ্ঠানিক চলে, তবে ইন্টারভিউতে স্মার্ট ক্যাজুয়াল (ফরমাল শার্ট, জিন্স নয় এমন প্যান্ট) নিরাপদ।
- শিক্ষকতা: মার্জিত আর সাধারণ।
সন্দেহ থাকলে একটু বেশি আনুষ্ঠানিক হওয়াই ভালো।
সঙ্গে যা নেবেন
- সিভির দুই-তিনটি প্রিন্ট, ফাইলে।
- প্রবেশপত্র বা ইন্টারভিউর চিঠি, প্রয়োজনীয় সনদ।
- কলম আর ছোট নোটবুক।
- রুমাল, পানি।
- ফোন সাইলেন্টে।
কক্ষে ঢোকা থেকে বের হওয়া
- সময়: ১০-১৫ মিনিট আগে পৌঁছান। অপেক্ষার সময় অভ্যর্থনার কর্মীর সঙ্গেও ভদ্র থাকুন; অনেক প্রতিষ্ঠানে তাদের মতামতও নেওয়া হয়।
- ঢোকার আগে: দরজায় হালকা নক করে অনুমতি নিন।
- শুভেচ্ছা: সালাম বা শুভেচ্ছা জানান, হাসিমুখে।
- বসা: বসতে বললে বসুন, সোজা হয়ে, পিঠ চেয়ারে হালকা হেলান দিয়ে। ফাইল কোলে বা পাশে, টেবিলে ছড়িয়ে নয়।
- চোখে চোখ: যিনি প্রশ্ন করছেন তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিন, মাঝে মাঝে বোর্ডের অন্যদের দিকেও।
- শেষে: ধন্যবাদ জানিয়ে, চেয়ার ঠিক জায়গায় রেখে বের হন।
শরীরী ভাষা
- হাত: স্বাভাবিক, কোলে বা টেবিলে হালকা করে। আঙুল দিয়ে টেবিলে টোকা, কলম ঘোরানো, হাত বুকে বাঁধা এড়িয়ে চলুন।
- পা: স্থির; বারবার নাড়ানো নার্ভাসনেস দেখায়।
- মুখ: স্বাভাবিক হাসি। গম্ভীর মুখে বসে থাকার দরকার নেই।
- কণ্ঠ: স্পষ্ট, মাঝারি গতি। নার্ভাস হলে সবাই দ্রুত বলেন; একটু ধীরে বলার চেষ্টা করুন।
ছোট ভুল, বড় ক্ষতি
- দেরিতে পৌঁছানো, আর আগে না জানানো।
- ফোন বেজে ওঠা বা ফোন দেখা।
- কড়া সুগন্ধি।
- বোর্ডের কথা কেটে কথা বলা।
- চুইংগাম চিবানো।
- অপেক্ষার সময় অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান বা বোর্ড নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা।
অনলাইন ইন্টারভিউ হলে
পোশাকের নিয়ম একই, সঙ্গে আলো, ক্যামেরা আর শব্দের প্রস্তুতি। বিস্তারিত: অনলাইন ভিডিও ইন্টারভিউ টিপস।
প্রস্তুতির বাকি অংশ
পোশাক আর আচরণ দরজা খুলে দেয়, কিন্তু চাকরি পাওয়া নির্ভর করে উত্তরের ওপর। পড়ুন ইন্টারভিউতে সবচেয়ে বেশি আসা ১৫টি প্রশ্ন আর "নিজের সম্পর্কে বলুন" এর উত্তর। আর ইন্টারভিউতে বোর্ডের আচরণও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অনেক কিছু বলে; কিছু সতর্কসংকেত চিনতে পড়ুন ইন্টারভিউতে যে লক্ষণগুলো দেখলে সাবধান হবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
ইন্টারভিউতে কি টাই পরা বাধ্যতামূলক?
না। ব্যাংক, বহুজাতিক আর করপোরেটে প্রত্যাশিত, কিন্তু এনজিও, আইটি বা শিক্ষকতার ইন্টারভিউতে পরিচ্ছন্ন ফরমাল শার্টই যথেষ্ট।
মেয়েদের ইন্টারভিউতে শাড়ি না সালোয়ার-কামিজ?
দুটোই উপযুক্ত, মার্জিত রঙ আর সাধারণ নকশায়। যেটায় আপনি স্বচ্ছন্দ, সেটাই ভালো। ব্যাংক আর সরকারি ভাইভায় শাড়ি প্রচলিত, তবে বাধ্যতামূলক নয়।
যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন
যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।
আরো পড়ুন

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
চাকরির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: নমুনাসহ সহজ গাইড
সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আবেদনপত্রে কী লিখবেন, কোন ক্রমে লিখবেন, কোন ভুলে আবেদন বাদ পড়ে, আর কপি করে ব্যবহার করার মতো দুটি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
যোগদানপত্র লেখার নিয়ম: নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার চিঠির নমুনা
নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথম দিনে যোগদানপত্র কীভাবে লিখবেন, কী কী কাগজ সঙ্গে নেবেন, আর সরকারি ও বেসরকারি চাকরির জন্য নমুনা।

চাকরি খোঁজা৬ মিনিটে পড়ুন
অভিজ্ঞতা সনদ লেখার নিয়ম: নমুনা, কী থাকবে আর কীভাবে চাইবেন
চাকরি ছাড়ার সময় অভিজ্ঞতা সনদ কেন দরকার, সনদে কী কী তথ্য থাকা উচিত, প্রতিষ্ঠান দিতে না চাইলে কী করবেন, আর বাংলা ও ইংরেজি নমুনা।

চাকরি খোঁজা৫ মিনিটে পড়ুন
বদলির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম: সরকারি ও বেসরকারি চাকরির নমুনা
পারিবারিক কারণ, অসুস্থতা বা স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকার জন্য বদলির আবেদন কীভাবে লিখবেন, কোন যুক্তি কাজে লাগে, কোন পথে পাঠাবেন, আর তিনটি নমুনা।