চাকরি কেমন
সব লেখা

চাকরি খোঁজা৪ মিনিটে পড়ুন

ব্যাংক ভাইভা প্রশ্ন: প্রবেশনারি ও ক্যাশ অফিসার পদে যা জিজ্ঞেস করা হয়

ব্যাংকের মৌখিক পরীক্ষায় ঘুরেফিরে আসা ২০টির বেশি প্রশ্ন: নিজের পরিচয়, ব্যাংকিংয়ের মৌলিক ধারণা, অর্থনীতি, পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন, আর প্রতিটির উত্তর সাজানোর উপায়।

ব্যাংকের ভাইভা বোর্ডের সামনে বসা প্রার্থী, টেবিলে ফাইল আর নেমপ্লেট

লিখিত পরীক্ষা পেরিয়ে ভাইভার ডাক পাওয়া মানে আপনি চাকরির খুব কাছে। ব্যাংকের মৌখিক পরীক্ষা সাধারণত দশ থেকে বিশ মিনিটের, আর বোর্ডে থাকেন দুই থেকে পাঁচজন। বোর্ড দেখতে চায় তিনটি জিনিস: আপনি কথা গুছিয়ে বলতে পারেন কি না, ব্যাংকিংয়ের মৌলিক বিষয় জানেন কি না, আর চাপের মধ্যে শান্ত থাকতে পারেন কি না। মুখস্থ উত্তরের চেয়ে বোঝা উত্তর এখানে অনেক বেশি কাজে আসে।

নিচে প্রশ্নগুলো ভাগ করে দেওয়া হলো। প্রতিটির সঙ্গে আছে উত্তর সাজানোর ধরন; নিজের কথায় বলুন।

নিজের সম্পর্কে প্রশ্ন

১. নিজের সম্পর্কে বলুন। এক মিনিটের মধ্যে: নাম, কোথা থেকে কী পড়েছেন, পড়াশোনার কোন অংশ ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে তা। জীবনী নয়, পেশাগত পরিচয়। বিস্তারিত পরামর্শ: "নিজের সম্পর্কে বলুন" এর উত্তর।

২. কেন ব্যাংকিং? "নিরাপদ চাকরি" বললে আলাদা হন না। বলুন আর্থিক বিষয়ে আগ্রহ, মানুষের সঙ্গে কাজ, অর্থনীতিতে ব্যাংকের ভূমিকা। নিজের পড়াশোনা বা অভিজ্ঞতার সঙ্গে যোগ দেখান।

৩. আপনার বিষয় তো ব্যাংকিং নয়, কেন এখানে? বিজ্ঞান, প্রকৌশল বা কলা বিভাগের প্রার্থীদের প্রায়ই এই প্রশ্ন আসে। বলুন আপনার বিষয় থেকে কী দক্ষতা আনছেন (বিশ্লেষণ, হিসাব, যোগাযোগ), আর ব্যাংকিং শিখতে কী করেছেন।

৪. আপনার শক্তি আর দুর্বলতা কী? একটা শক্তি, উদাহরণসহ। একটা সত্যিকারের কিন্তু কাজ-ভাঙা নয় এমন দুর্বলতা, আর সেটা কাটাতে কী করছেন।

৫. আপনার জেলা সম্পর্কে বলুন। জেলার অর্থনীতি, প্রধান ফসল বা শিল্প, বিখ্যাত স্থান। আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে দুই লাইন জানলে ভালো প্রভাব পড়ে।

ব্যাংকিংয়ের মৌলিক ধারণা

৬. ব্যাংক কী, ব্যাংকের প্রধান কাজ কী? আমানত গ্রহণ, ঋণ দেওয়া, আর অর্থ লেনদেনের সেবা (রেমিট্যান্স, এলসি, কার্ড)। সংক্ষেপে, উদাহরণসহ।

৭. কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর বাণিজ্যিক ব্যাংকের পার্থক্য কী? কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা ছাপায়, মুদ্রানীতি ঠিক করে, ব্যাংকগুলো তদারকি করে; বাণিজ্যিক ব্যাংক সাধারণ মানুষ ও ব্যবসার সঙ্গে লেনদেন করে।

৮. সিআরআর আর এসএলআর কী? সিআরআর: আমানতের যে অংশ ব্যাংককে নগদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। এসএলআর: আমানতের যে অংশ তরল সম্পদে (নগদ, সরকারি সিকিউরিটি) রাখতে হয়। বর্তমান হার জিজ্ঞেস করতে পারে, তাই ভাইভার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নীতি দেখে যান।

৯. রেপো আর রিভার্স রেপো কী? রেপো: কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি ধার নেওয়ার হার। রিভার্স রেপো: উল্টো দিক। এগুলো দিয়ে বাজারে টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হয়।

১০. মুদ্রাস্ফীতি কী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নিয়ন্ত্রণে কী করে? জিনিসপত্রের দাম সাধারণভাবে বেড়ে যাওয়া। নীতি সুদহার বাড়িয়ে টাকার প্রবাহ কমানো এর একটা উপায়।

১১. খেলাপি ঋণ কী, কেন সমস্যা? নির্দিষ্ট সময় পেরিয়েও যে ঋণ শোধ হয়নি। ব্যাংকের আয় কমায়, মূলধন ঝুঁকিতে ফেলে, নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমায়।

১২. এলসি (ঋণপত্র) কী? আমদানি-রপ্তানিতে ব্যাংকের দেওয়া প্রতিশ্রুতি যে শর্ত পূরণ হলে বিক্রেতা টাকা পাবেন। আমদানিকারক আর রপ্তানিকারকের মধ্যে আস্থার সেতু।

১৩. কেওয়াইসি কী, কেন দরকার? গ্রাহককে জানা (Know Your Customer): হিসাব খোলার সময় পরিচয় আর ঠিকানা যাচাই। অর্থপাচার আর জালিয়াতি রোধে জরুরি।

১৪. মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস আর এজেন্ট ব্যাংকিং কী? মোবাইলে টাকা পাঠানো-তোলার সেবা, আর শাখা ছাড়াই এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াচ্ছে।

১৫. ইসলামি ব্যাংকিং প্রচলিত ব্যাংকিং থেকে কীভাবে আলাদা? সুদের বদলে লাভ-লোকসান ভাগাভাগি আর ক্রয়-বিক্রয়ভিত্তিক পদ্ধতি (যেমন মুরাবাহা, মুদারাবা)। ইসলামি ব্যাংকে ভাইভা দিলে এই অংশে বেশি প্রস্তুতি নিন।

অর্থনীতি ও সাম্প্রতিক বিষয়

১৬. দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলুন। মুদ্রাস্ফীতি, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, খেলাপি ঋণ, এমন একটা বিষয় বেছে নিয়ে কারণ আর সম্ভাব্য সমাধান। ভাইভার আগের দুই-তিন সপ্তাহের অর্থনৈতিক খবর পড়ে যান।

১৭. বাজেট সম্পর্কে কী জানেন? সর্বশেষ বাজেটের আকার, বড় খাত, আর চাকরিজীবী হিসেবে করের কোনো পরিবর্তন। আয়করের সর্বশেষ নিয়ম জানা থাকলে কাজে আসে: আয়কর ২০২৬-২৭।

১৮. রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ? বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস, গ্রামীণ অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ, আর বৈধ পথে পাঠালে রিজার্ভে যোগ হয়।

পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন

১৯. একজন গ্রাহক কাউন্টারে খুব রেগে গেছেন, কী করবেন? শান্তভাবে শুনবেন, সমস্যা বুঝবেন, নিয়মের মধ্যে সমাধান দেবেন বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাবেন। কখনো তর্ক নয়।

২০. দিনশেষে ক্যাশে টাকা কম পাওয়া গেল, কী করবেন? সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতনকে জানাবেন, লেনদেনগুলো আবার মিলিয়ে দেখবেন, নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্ট করবেন। লুকানোর চেষ্টা কখনো নয়।

২১. পরিচিত কেউ নিয়মের বাইরে সুবিধা চাইলে? বিনয়ের সঙ্গে না বলবেন, নিয়ম ব্যাখ্যা করবেন। ব্যাংকে সততাই প্রথম শর্ত।

২২. ডিপোজিট টার্গেট কীভাবে পূরণ করবেন? পরিচিত মহল, এলাকার ব্যবসায়ী, বেতন অ্যাকাউন্টের জন্য প্রতিষ্ঠান, আর ভালো সেবা দিয়ে গ্রাহকের আস্থা। অবাস্তব প্রতিশ্রুতি নয়।

ইংরেজিতে প্রশ্ন

অনেক বোর্ড কয়েকটা প্রশ্ন ইংরেজিতে করে, শুধু ভাষার দক্ষতা দেখতে। সহজ, ছোট বাক্যে উত্তর দিন। ব্যাকরণে একটা-দুটো ভুল হলে থামবেন না; আত্মবিশ্বাস আর স্পষ্টতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভাইভার দিনের প্রস্তুতি

  • প্রবেশপত্র, মূল সনদ, সত্যায়িত কপি আর ছবি, বিজ্ঞপ্তির তালিকা অনুযায়ী।
  • আনুষ্ঠানিক, পরিচ্ছন্ন পোশাক। বিস্তারিত: ইন্টারভিউতে পোশাক ও আচরণ।
  • নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে পৌঁছান।
  • উত্তর না জানলে সৎভাবে বলুন "জানা নেই, জেনে নেব"। বানিয়ে বললে বোর্ড পরের প্রশ্নে ধরে ফেলে।

ভাইভার পর

ভাইভা কেমন হলো, কী প্রশ্ন এল, বোর্ডের আচরণ কেমন ছিল, এসব তথ্য পরের প্রার্থীর জন্য খুব কাজের। চাকরি কেমন-এ নাম প্রকাশ না করে ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতা লিখুন। ব্যাংকগুলোতে কাজের পরিবেশ কেমন, দেখুন ব্যাংক ও বিমা খাতের গাইডে, আর আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া পড়ুন ব্যাংকে চাকরির আবেদন লেখায়।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্যাংক ভাইভায় কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে?

নিজের পরিচয় ও কেন ব্যাংকিং, ব্যাংকিংয়ের মৌলিক ধারণা (সিআরআর, এসএলআর, রেপো, এলসি, কেওয়াইসি), সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক খবর আর পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন।

ব্যাংক ভাইভা কি ইংরেজিতে হয়?

সাধারণত বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে। অনেক বোর্ড কয়েকটা প্রশ্ন ইংরেজিতে করে ভাষার দক্ষতা দেখতে; সহজ বাক্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিন।

ভাইভায় উত্তর না জানলে কী বলব?

সৎভাবে বলুন যে এই মুহূর্তে জানা নেই, জেনে নেবেন। অনুমানে ভুল তথ্য বললে বোর্ড পরের প্রশ্নে সেটা ধরে ফেলে।

শেয়ার করুন:ফেসবুকহোয়াটসঅ্যাপলিংকডইন

যোগ দেওয়ার আগে খোঁজ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন, সেখানকার কর্মীরা কী বলছেন দেখে নিন — অথবা নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে সাহায্য করুন।

আরো পড়ুন