Pay3 min read
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬-২৭: চাকরিজীবীদের জন্য ধাপে ধাপে
এ বছর থেকে নির্দিষ্ট কর দিবস নেই, সারা বছর রিটার্ন জমা যায়, কিন্তু সময় অনুযায়ী রেয়াত বা বাড়তি কর। কী কী লাগবে, কোন ধাপে কী করবেন আর কোন ভুলগুলো এড়াবেন।

আগে প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর ছিল কর দিবস, রিটার্ন জমার শেষ দিন। অর্থ আইন ২০২৬ সেই একক শেষ তারিখ তুলে দিয়ে সারা বছর রিটার্ন জমার ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু কখন জমা দিচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে রেয়াত বা বাড়তি কর। চাকরিজীবীদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া এখন বেশ সহজ; এই লেখায় পুরো প্রক্রিয়া।
২০২৬-২৭ করবর্ষে কখন জমা দিলে কী হয়
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২ আগস্ট ২০২৬ ব্যক্তি করদাতাদের জন্য সময়সীমা ঘোষণা করেছে:
- ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রদেয় করের ওপর ৫% রেয়াত, সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা। এই সময় পেরিয়ে গেছে।
- ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: কোনো রেয়াত নেই, বাড়তি করও নেই। এখন এই সময় চলছে, তাই দেরি না করে এখনই জমা দিন।
- ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭: প্রদেয় করের ২% অথবা ৩,০০০ টাকা, যেটা বেশি, বাড়তি কর।
- ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন ২০২৭: বাড়তি কর প্রদেয় করের ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি।
শেষ মুহূর্তে পোর্টালে ভিড় হয়, তাই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো।
শুরু করার আগে যা যা হাতে রাখবেন
- ১২ অঙ্কের টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর)।
- আপনার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত মোবাইল সিম। এই নম্বরে ওটিপি আসে, অন্যের নামের সিম চলবে না।
- নিয়োগকর্তার দেওয়া বেতনের বিবরণী আর উৎসে কাটা করের সনদ। সনদ কেন দরকার, পড়ুন উৎসে কর কাটার লেখায়।
- ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা বিমার কাগজ থাকলে।
- সম্পদ আর দায়ের তথ্য: জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ঋণ ইত্যাদি, যাদের প্রযোজ্য।
ধাপে ধাপে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-রিটার্ন পোর্টাল etaxnbr.gov.bd খুলুন। প্রথমবার হলে টিআইএন আর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন, ওটিপি দিয়ে পাসওয়ার্ড ঠিক করুন।
- লগইন করে করবর্ষ ২০২৬-২৭ বেছে নিন। চাকরিজীবীদের জন্য সাধারণত একক ব্যক্তির সাধারণ রিটার্ন ফর্ম প্রযোজ্য; পোর্টাল আপনার উত্তর অনুযায়ী ফর্ম দেখায়।
- বেতনের আয় লিখুন: মূল বেতন, ভাতা, বোনাস। পোর্টাল নিয়ম অনুযায়ী করমুক্ত অংশ বাদ দেয়।
- অন্য আয় থাকলে লিখুন, যেমন ব্যাংক সুদ বা বাড়িভাড়া।
- বিনিয়োগের তথ্য দিন, যাতে রেয়াত হিসাব হয়।
- উৎসে কাটা কর লিখুন, সনদে যে অঙ্ক আছে ঠিক সেটাই।
- সম্পদ ও দায়ের বিবরণী আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের তথ্য পূরণ করুন, যাঁদের প্রযোজ্য।
- পোর্টাল চূড়ান্ত কর হিসাব দেখাবে। বাকি কর থাকলে ব্যাংক ট্রান্সফার, কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পরিশোধ করুন।
- জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ডাউনলোড করে রাখুন। ব্যাংক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড বা অনেক সরকারি কাজে এটা লাগে।
আগে থেকে নিজের কর আনুমানিক জানতে আয়কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন, যাতে পোর্টালের অঙ্ক মিলিয়ে দেখতে পারেন।
কার রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক
আয় করমুক্ত সীমা পেরোলে রিটার্ন দিতে হয়। এ ছাড়া আয় কম হলেও অনেক ক্ষেত্রে রিটার্ন বা রিটার্ন জমার প্রমাণ লাগে, যেমন নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি ঋণ, ক্রেডিট কার্ড বা কিছু সরকারি সেবা নিতে। কোন কোন ক্ষেত্রে লাগে, তার তালিকা প্রতি বছর বদলাতে পারে; NBR-এর ওয়েবসাইটে দেখে নিন।
কিছু করদাতা, যেমন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আর বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা, অনলাইনের বদলে কাগজে রিটার্ন দিতে পারেন। বাকিদের জন্য অনলাইনই প্রধান পথ।
যে ভুলগুলো বেশি হয়
- সনদের সঙ্গে না মিলিয়ে উৎসে কাটা কর আন্দাজে লেখা।
- দুই চাকরির আয় থাকলে একটার কথা বাদ দেওয়া।
- ব্যাংক সুদের আয় লিখতে ভুলে যাওয়া; ব্যাংক এর ওপরও কর কাটে।
- সম্পদ বিবরণীতে আগের বছরের সঙ্গে অমিল রাখা।
- প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ডাউনলোড না করা।
সাহায্য লাগলে
পোর্টালে আটকে গেলে NBR-এর হেল্পলাইন বা নিকটস্থ কর অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। আয় আর সম্পদ জটিল হলে একজন আয়কর আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া ভালো।
এই লেখা সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, কর বা আইনি পরামর্শ নয়। সময়সীমা আর নিয়ম NBR-এর ঘোষণা অনুযায়ী বদলাতে পারে।
Frequently asked questions
২০২৬ সালে আয়কর রিটার্ন জমার শেষ তারিখ কবে?
এ বছর থেকে একক শেষ তারিখ নেই, ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত জমা দেওয়া যায়। তবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জমা দিলে কোনো বাড়তি কর নেই; এরপর জানুয়ারি থেকে বাড়তি কর শুরু হয়।
অনলাইনে রিটার্ন দিতে কি টিআইএন লাগে?
হ্যাঁ, ১২ অঙ্কের টিআইএন আর আপনার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত মোবাইল সিম লাগে।
আমার কর শূন্য, তাহলেও কি রিটার্ন দিতে হবে?
টিআইএন থাকলে বা রিটার্ন জমার প্রমাণ লাগে এমন সেবা নিলে কর শূন্য হলেও রিটার্ন দিতে হয়। কর শূন্য হলে রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র রেখে দেওয়াই নিরাপদ।
অফিস কর কেটেছে, সেটা রিটার্নে কীভাবে দেখাব?
উৎসে পরিশোধিত করের ঘরে নিয়োগকর্তার সনদে লেখা অঙ্কটি লিখুন। এটা আপনার প্রদেয় কর থেকে বাদ যায়।
Check before you join
See what employees say about the employer you are applying to — or write about your own workplace to help someone else.
Keep reading

Pay4 min read
আয়কর ২০২৬-২৭: চাকরিজীবীর বেতনে কত কর দিতে হবে
নতুন করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা, বেতনের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত, তারপর ধাপে ধাপে কর। উদাহরণসহ সহজ ভাষায় পুরো হিসাব, আর নিজের কর বের করার ক্যালকুলেটর।

Pay3 min read
বেতন থেকে উৎসে কর কাটা (TDS): কেন কাটে, কত কাটে, ভুল হলে কী করবেন
প্রতি মাসে বেতনের স্লিপে "আয়কর" লেখা একটা কাটা দেখেন? অফিস কেন এটা কাটে, কীভাবে অঙ্কটা ঠিক হয়, আর বেশি কাটলে কীভাবে ফেরত বা সমন্বয় পাবেন, সহজ ভাষায়।

Pay3 min read
গ্রস বেতন আর নেট বেতন: পার্থক্য কী, বেতনের স্লিপ কীভাবে পড়বেন
অফারে লেখা বেতন আর মাস শেষে হাতে পাওয়া টাকা আলাদা কেন? মূল বেতন, ভাতা, কাটা আর নেট বেতনের প্রতিটি লাইন সহজ করে বোঝানো হলো, উদাহরণসহ।
Pay7 min read
Negotiating your salary: what to say and how to say it
"What is your expected salary?" is the most awkward interview question. With some preparation it can be the most valuable moment of the process.